শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

অভয়নগরে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ৪ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের অভয়নগরে বিএনপির এক বহিস্কৃত নেতা ও ব্যবসায়ী সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে জিম্মি করে চার কোটি টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গত ৩১ জুলাই অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর স্ত্রী মোছা. আসমা খাতুন।

অভিযুক্তরা হলেন-নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি ও নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ (মফিজুর রহমান দপ্তরী)।

লিখিত অভিযোগে আসমা খাতুন উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সকালে ১০ টায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে সুকৌশলে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির অফিসে ডেকে নিয়ে যায় সৈকত হোসেন হিরা নামের এক ব্যক্তি। এ সময় আসাদুজ্জামান জনি টিপুকে মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই কোটি টাকা দাবি করে। এরপর টিপুর স্ত্রী সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনির নিজ প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে দুই কোটি টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (জঞএঝ) করেন। টাকা পেয়ে ওইদিন ব্যবসায়ী টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এরপর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ব্যবসায়ী টিপু গ্রামের বাড়ি চলিশিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট পার হলে সৈকত হোসেন হিরা তার গতিরোধ করেন। এরপর বেলা ৩টা পর্যন্ত টিপুর মুঠোফোনটা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারেন টিপুকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনির কণা ইকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর টিপুর স্ত্রী সেখানে গেলে আসাদুজ্জামান জনি, সম্রাট হোসেনও নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মফিজ (মফিজুর রহমান দপ্তরী) আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে বাদিকে মারধর করে। এরপর বুক অব্দি গর্ত খুড়ে বালু চাপা দিয়ে আরও দুই কোটি টাকা দাবি করে। এ সময় ব্যবসায়ী টিপু বাধ্য হয়ে তার ম্যানেজারকে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। এরপর ম্যানেজার সাংবাদিক মফিজের একাউন্টে পুবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লক্ষ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লক্ষ টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) করে। এ সময় মফিজ আরও এক কোটি টাকার চেক আদায় করে। পাশাপাশি জনির নামে ক্রয়কৃত ৩ টি ও দিলিপ সাহার নামে ক্রয়কৃত ৩টি ১০০ টাকার ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর কাউকে কিছু বললে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।

অভিযোগের বিষয় জানতে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির (পদ স্থগিত সাংগঠনিক সম্পাদক) নেতা আসাদুজ্জামান জনির মুঠোফোনে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরীর মুঠোফোনে কল দিয়ে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জনির বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে এখন আমাদের কেউ না। ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায় সম্পর্কে কোন তথ্য জানা নেই। তার কর্মকান্ডে আমাদের দল কোন দায় নিবে না।

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবসায়ী টিপুর স্ত্রী থানায় অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ