শুক্রবার, ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

চাবুকের আঘাত সহ্য করে বিয়েতে পুরুষত্বের প্রমাণ দিতে হয় যে দেশে

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি অঞ্চলে বসবাসকারী ফুলানি জনগোষ্ঠী তাদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, সামাজিক কাঠামো ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির জন্য পরিচিত। এই জনগোষ্ঠীর কিছু উপগোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ের আগে পুরুষের সাহস, আত্মসংযম ও সহনশীলতা যাচাইয়ের জন্য একটি কঠোর সামাজিক পরীক্ষার প্রচলন রয়েছে।

গবেষণা ও নৃতাত্ত্বিক সূত্র অনুযায়ী, ফুলানি সমাজের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ‘শারো (Sharo)’ নামে পরিচিত এই রীতিতে সম্ভাব্য বরকে প্রকাশ্যভাবে চাবুকের আঘাত সহ্য করতে হয়। এই পরীক্ষা মূলত বিয়ের সরাসরি শর্ত নয়, বরং সমাজে একজন পুরুষ কতটা মানসিকভাবে দৃঢ়, আত্মসম্মানী এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম—তার প্রতীকী যাচাই হিসেবে দেখা হয়।

এই রীতির মূল দর্শন হলো—যে ব্যক্তি প্রকাশ্য অপমান বা শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করেও সংযম হারায় না, সে ভবিষ্যতে পরিবার ও সমাজের চাপ সামলাতে পারবে। ফুলানি সমাজে পুরুষত্ব কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় নয়; বরং তা ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সম্মান রক্ষার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।

তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই চাবুক–সহন রীতি সব ফুলানি বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি একটি ঐতিহ্যগত সামাজিক অনুষ্ঠান, যা যুবকদের প্রাপ্তবয়স্ক সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। কোথাও এটি উৎসবের অংশ, কোথাও আবার ঐচ্ছিক।

নারীদের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই রীতি একটি সামাজিক সংকেত বহন করে। এতে পরিবার ও সমাজের কাছে প্রমাণ হয়—যে ব্যক্তি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, সে দায়িত্বশীল এবং সামাজিক নিয়ম মানতে সক্ষম। তবে আধুনিক সময়ে অনেক ফুলানি পরিবার এই প্রথা পরিত্যাগ করছে বা প্রতীকী পর্যায়ে সীমিত রাখছে।

নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফুলানি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কেবল এই পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। পোশাক, সংগীত, নাচ, ধর্মীয় আচার এবং পারিবারিক আলোচনাসহ বহু স্তরের সাংস্কৃতিক উপাদান এতে যুক্ত থাকে। অর্থাৎ বিয়ে এখানে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, বরং একটি সামষ্টিক সামাজিক চুক্তি।

এই প্রথা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে। তবে, বাইরের দৃষ্টিতে এই রীতি কঠোর ও অমানবিক মনে হলেও সংশ্লিষ্ট সমাজের ভেতরে এটি ঐতিহ্য, সম্মান ও সামাজিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র:ইত্তেফাক

 

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ