বিশ্বজিৎ সিংহ রায়,মহম্মদপুর ( মাগুরা):
সূর্যের আলো পড়তেই যখন পদ্মপাতার ফাঁক গলে ওঠে লালচে আভা,তখন মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই পরেছে অলঙ্কার। বাংলার গ্রামীণ জলাশয়,মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে পুকুরে ছড়িয়ে থাকা লাল পদ্ম শুধু ফুল নয়,এক জীবন্ত চিত্রকল্প।
সকালের প্রথম রোদে এ ফুলের পাপড়িগুলো আস্তে আস্তে মেলে ধরে,আর সন্ধ্যা নামার আগেই আবার মুছে যায় তার রূপ। এই অস্থায়িত্বই যেন জীবনের মতো-ক্ষণস্থায়ী,অথচ অপূর্ব।
লোককথা ও সাহিত্যেও লাল পদ্মের উপস্থিতি অনন্য।কবির কলমে,চিত্রশিল্পীর তুলি আর গায়কের কণ্ঠে বারবার ফুটে উঠেছে এর নাম।
কখনও এটি প্রেমের রূপক,কখনও বা ত্যাগের প্রতীক।বাংলার জনপদে লাল পদ্ম মানেই প্রকৃতির বুকে এক টুকরো মায়া,যা দেখলে মন ভরে যায় শান্তিতে।
প্রকৃতিবিদদের মতে,লাল পদ্ম শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়-জলাশয়ের ভারসাম্য রক্ষায়ও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।এর পাতাগুলো সূর্যের আলো শোষণ করে জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য তৈরি করে নিরাপদ আশ্রয়।
লাল পদ্ম তাই শুধু ফুল নয়,এটি আমাদের সংস্কৃতি, অনুভব ও অস্তিত্বের অংশ।শান্ত জলের উপর যখন ফুটে ওঠে লাল পদ্মের কোমল হাসি,তখন মনে হয় জীবন যতই কঠিন হোক,সৌন্দর্য তার নিজস্ব জায়গা খুঁজে নেয়।

