সাব্বির হোসেন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমে অতিরিক্ত সময় কাটানো কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শহরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে, দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইনে সময় কাটানোর ফলে ঘুমে বিঘ্ন, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া এবং বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে দুরত্ব তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবারের সহায়তা এবং বিদ্যালয়ের নজরদারি ছাড়া এই সমস্যা কমানো কঠিন।
স্থানীয় কিশোর-কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকরা জানান, তারা নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। শিক্ষকরা বলেন, “পরিবারের সহযোগিতা থাকলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কিশোর-কিশোরীরা যেন দিনে সর্বাধিক দুই ঘণ্টার বেশি অনলাইনে সময় না কাটায়। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং খোলা জায়গায় হাঁটার মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব। এছাড়া উদ্বেগ বা চাপ দেখা দিলে কাউন্সেলিং সেবা বা হেল্পলাইন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করে তোলে, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই পরিবার, বিদ্যালয় এবং কমিউনিটির সচেতন সহযোগিতা এখন একান্ত জরুরি।

