শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

অনেক কথা বলার আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের

আরো খবর

না বলা অনেক কথা ভিড় করলেও বলতে পারলেন না আবেগ আর অনুযোগে। ককটেলে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটাতে চান হয়তো তিনি। তবে কবে তা? সেটা হয়তো বিশ্বকাপ-পরবর্তী কোনো এক সময়ে বা বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মঙ্গলবার ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিলেন, অনেক কিছু বলার আছে তাঁর। কিন্তু নিয়মের নিয়ন্ত্রণে থাকায় কিছুই বলা হলো না বিশ্বকাপ মঞ্চে।

রিয়াদ কী বলতে চান, তা অনুমান করা কঠিন নয়। গত ছয়-সাত মাস যারা দেশের ক্রিকেটের খোঁজখবর রেখেছেন, তারা জানেন বিশ্বকাপের আগে কতটা প্রতিকূল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সেসবের জবাব দিতেই কিনা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশাল পরাজয়ের ম্যাচে সেঞ্চুরি উদযাপন করতে দেখা গেল কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে, যেখানে ছিল প্রতিবাদের প্রকাশ।

বিশ্বকাপ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এ ব্যাটার শেষ কবে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন, মনে নেই। বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন এই বিশ্বকাপেও। অনুশীলনে পরিচিত কেউ কাছ দিয়ে গেলেও ফিরে তাকাননি। সেই তিনিই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এলেন হাসিমুখে। কারণ, ভারত বিশ্বকাপের সেঞ্চুরিয়ান তিনি। বিশ্বকাপে আগেও সেঞ্চুরি করেছেন এ ব্যাটার।

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক করেছিলেন। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রয়েছে ক্ল্যাসিক সেঞ্চুরি। তবে কি বৈশ্বিক ইভেন্টের জন্য নিজের সেঞ্চুরি তুলে রাখেন মিডল অর্ডার এ ব্যাটার? তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করি দলের জন্য কিছু করার। সব সময় হয় না। আলহামদুলিল্লাহ, সেঞ্চুরি হয়েছে। চেষ্টা করব পরের ম্যাচ থেকে আরও অবদান রাখতে।’

৪২ রানে চার উইকেট হারানোর পর ছয় নম্বরে নেমেছিলেন রিয়াদ। নেমেই ড্রাইভ শটে রানের খাতা খোলেন। দেখে মনে হচ্ছিল, আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নেমেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তিনি স্থির হলেও অন্য প্রান্তের উইকেট ঝরে পড়া দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছিল। যদিও তিনি সেটাকে হতাশায় পরিণত হতে দেননি। কাণ্ডারি হয়ে দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে লড়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত। স্রোতের বিপরীতে চলতে চলতে আরাধ্য সেঞ্চুরির দেখাও পেলেন।

রিয়াদ সেঞ্চুরি উদযাপন করেন ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরে। শূন্যে লাফিয়ে দেখালেন– ফুরিয়ে যাননি তিনি। ড্রেসিংরুমে বসা সেই মানুষদের হাতের ইশারায় বোঝাতে চাইলেন– এ সেঞ্চুরি সৃষ্টিকর্তার উপহার। রিয়াদের ইনিংস শেষ হয় ১১১ রানে। এই রান দলের পরাজয় ঠেকাতে না পারলেও ব্যবধান কমাতে পেরেছে। ছয় নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করে টপঅর্ডার ব্যাটারদের কিছুটা লজ্জাও দিলেন তিনি। যদিও রিয়াদ জানান, রাতে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশি ভালো হয়ে গিয়েছিল। তিনি হয়তো সতীর্থদের সমালোচনার হাত থেকে বাঁচাতে এভাবে বললেন। তবে কি দিনের উইকেট ভালো ছিল না?

তাহলে কুইন্টন ডি কক ১৪০ বলে ১৭৪ রানের যে ইনিংসটি খেলেছেন, সেটি কোন উইকেটে খেলা হয়েছে? এইডেন মার্করামের ৬০, হেনরিখ ক্লাসেন ৪৯ বলে ৯০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন কীভাবে! ব্যর্থতা আড়াল করতে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিদের খোঁড়া যুক্তি দেখানো নতুন কিছু নয়। ব্যাকআপ সংস্কৃতির অন্তরালে একজন অন্যজনের দুর্বলতাই আড়াল করছেন। ঠকাচ্ছেন নিজের দলকে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ