রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

অভয়নগরে চাঞ্চল্যকর মুরাদ হত্যাকারীদের আদালতে জবানবন্দি

আরো খবর

অভয়নগর প্রতিনিধি:যশোরের অভয়নগরে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা মুরাদ হোসেন হত্যার ঘটনায় নিজদেরে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামী জবানবন্ধী প্রদান করেছেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) যশোরের সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট গোলাম কিবরিয়ার আদালতে গ্রেফতারকৃত আল-আামিন শেখ ও রনি ব্যাপারি এই জবানবন্ধী প্রদান করেন।
ইতোপূর্বে আসামী সাগর কাজী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল এর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্ধী প্রদান করেন। ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্ধীতে তারা জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে যুবলীগ নেতা মুরাদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মুরাদ এর গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য ইনফরমার নিয়োগ দেয়া হয়।
ঘটনার দুইদিন আগে  নওয়াপাড়া গ্রামের মাঠের ভিতর একটি নারিকলে বাগানে হত্যার বিষয় নিয়ে একটি মিটিং হয়। ওই মিটিং এ হত্যাকান্ডের সময় কে কি দায়িত্ব পালন করবে তা বুঝিয়ে দেয়া হয়। দায়িত্ব অনুযায়ী ঘটনার দিন ১১ ফেব্রুয়ারী রাতে মুরাদ হোসেন বাড়ী ফিরছে এই খবর পেয়ে ওই দলের নেতা ও মূল হত্যার পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা  একটি ভ্যান চালককে ভ্যান নিয়ে মাঠের ভিতর একটি চায়ের দোকানের সামনে আসতে বলেন।
ভ্যান চালক ভ্যান নিয়ে আসলে ওই ভ্যানে মানকি টুপি পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র যেমন- চাপাতী, চাইনিস কুড়াল নিয়ে ৫জন মুরাদের বাড়ীর সামনে থেকে ঘটনা স্থল স্বপ্নভিলার সামনে উপস্থিত হয়। ইতোমধ্যে যুবলীগ নেতা মুরাদ সেখানে এসে উপস্থিত হয়। ভ্যান থেকে নেমে মুরাদকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। এক সময় মুরাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যা মিশনে অংশ নেয়া হত্যাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে হত্যাকারীরা পূর্বের সেই নারিকেল বাগানে অবস্থান নেয় এবং অর্থদাতা ও হত্যার পরিকল্পনাকারী বাড়ীতে গিয়ে প্রতিজন সাড়ে ৩ হাজার টাকা গ্রহণ করে এবং বাকি আরও টাকা পরে দেয়া হবে বলে আশস্ব হয়। হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র তার কাছে জমা দিয়ে তারা আত্ম গোপনে চলে যায়। জবানবন্দিতে তারা জানান, অর্থদাতা পরিকল্পনাকারী এবং ইনফরমারসহ হত্যায় সরাসরি মোট ১০/১১ জন অংশগ্রহণ করে। যুবলীগ নেতা মুরাদ হত্যার পর পুলিশ হত্যাকারীদের আটক করতে মাঠে নামে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকালে অভয়নগর থানায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যশোর-খ সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগ জানায়, স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত আসামীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকস টিমের অভিযানে গত বুধবার (১৩ মার্চ) নওয়াপাড়া রেল স্টেশন এলাকা থেকে মো: সাগর কাজী নামের একজনকে আটক করা হয়। মো: সাগর কাজী উপজেলার নওয়াপাড়া মডেল কলেজ রোড়ের মধ্যপাড়া এলাকার মৃত. মহসিন কাজীর ছেলে। আটককৃত সাগরের দেয়া তথ্যমতে, ঘটনার সাথে জড়িত উপজেলার ধোপাদী গ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. আল-আমিন শেখ (২৫) ও রানাভাটা সবুজবাগ এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদ এর ছেলে মো. রনি ব্যাপারী (৩২) কে আটক করা হয়। প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আকিকুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শুভ্র কুমার দাস।
উল্লেখ্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি রোববার আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে নিহত মুরাদ নওয়াপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। বাড়ির কাছাকাছি স্বপ্ন ভিলার সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরতর আহত মুরাদকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। খুলনায় পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ