শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

অভয়নগর উপ-সহকারী কৃষি-কর্মকর্তার  শুভংকরের ফাঁকি 

আরো খবর

অভয়নগর (বাঘুটিয়া)  প্রতিনিধি

শ্রীধরপুর ইউনিয়নের সরকারি উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শুভংকর মিত্র এক সাব ডিলারের কাছ থেকে সার পাইয়ে দেবেন বলে হাতিয়ে নিয়েছে ৫ লক্ষাধিক টাকা। এমনই এক অভিযোগ পাওয়া গেছে শ্রীধরপুর ইউনিয়ন সহ গোটা ভৈরব উত্তর অঞ্চলে।  অভিযোগ করেছেন, শ্রীধরপুর ইউনিয়নের হরিশপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী সাব ডিলার আহাদুজ্জামান। আহাদুজ্জামান শ্রীধরপুর ইউনিয়নের বর্ণী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। গত মে মাসের শেষের দিকে সার দেবার কথা বলে নগদ ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অভয়নগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শুভংঙ্কার মিত্র। কৃর্ষি কর্মকর্তার হাতে লেখা এবং তার স্বাক্ষর যুক্ত সাদা কাগজের তালিকা থেকে পাওয়া তথ্য মতে জানা গেছে, ইউরিয়া ৩০০ বস্তা যার প্রতি বস্তার মূল্য ৮৫০ টাকা ,এমওপি ৪০০ বস্তা প্রতি বস্তার মূল্য ৮০০ টাকা এবং, টি এস পি ১০০ বস্তা যার প্রতি বস্তার মূল্য ধরা হয়েছে ১১০০টাকা। টাকার হিসাবে মোট মূল্য ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।  মোট ৮০০ বস্তা সারের মূল্য হিসাবে তিনি নিয়েছেন ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে হরিশপুর বাজারের সারের সাব ডিলার আহাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সিকিউরিটি বাবদ শুভংঙ্কার তাকে প্রিমিয়াম ব্যাংকের ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দিয়েছে। তবে তার ব্যবহৃত যশোর ব্রাঞ্চের (১৭০৪১০৯৪৬) শুভঙ্করের নামের একাউন্ট নং-২১২৩২১৫০১৬০০৪ কোন টাকা নেই। তিনি আরো জানান, এখন সার চাইলে বিভিন্ন টাল-বাহানা ও ভয় ভীতি প্রদান করছে তাকে। সরকারি সার গোপনে সাব-ডিলার আহাদুজ্জামানের কাছে বিক্রয়ের কথা বলে  ৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্য উঠে আসলে কৃষি কর্মকর্তা শ্রীধরপুর বাজারে যাওয়া বন্ধ করেছে বলে জানালেন সাব ডিলার আহাদুজ্জামান। সরকারি গোদামের সার কিভাবে বিক্রয় হবে? জানতে চাইলে শুভংঙ্কর জানালেন,  সার ডিলারের মাধ্যমে ছাড়া বিক্রয়ে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে তাদের চাহিদা অনুযায়ী তিনি পাওয়ার সুযোগ করে দেন। আরো এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি কর্মকর্তা জানালেন বর্তমানে ইউরিয়া সারের বাজার মূল্য প্রতিবস্তা ১১০০ টাকা, প্রতিবস্তা টিএসপি সারের মূল্য ১১০০ টাকা এবং এম ও পি প্রতিবস্তা ৭৫০ টাকা। সাব ডিলা বস্তা প্রতি ২৫ টাকা ছাড়পান। সার বিক্রয়ের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করে তিনি জানালেন, সাবডিলার আহাদুজ্জামানের কাছে কোন সার বিক্রয় করার কথা বলে কোন টাকা তিনি নেননি। তিনি আরো জানালেন, এরকম ধরনের কোন লেনদেন তিনি কারোর সাথে করেননি। দু-লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চেকের কথা বললে তিনি জানিয়েছেন  চেকের কোন প্রমান দিতে পারলে বিশ্বাস করবেন ঘটনা সত্য। তিনি আরো জানিয়েছেন সব কৃষক বা ডিলার সমান না অনেকে একটু অন্যরকম। এবিষয়ে কোদলা গ্রামের অভয়নগরের শ্রেষ্ট কৃষক নামে পরিচিত সুখেন রায় জানিয়েছেন, টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি জানেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, কৃষি অফিসার চিটার প্রকৃতির মানুষ আহাদুজ্জামানের সাথে সার বিক্রয় করার কথা বলে টাকা লেনদেন ও চেকর বিষয় সম্পূর্ণ সত্য।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ