রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আজ ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবস

আরো খবর

 

বিশেষ প্রতিনিধি : আজ ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর জেলা পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল। মিত্রবাহিনীর অব্যাহত চাপের মুখে এদিন দুপুরের পরপরই যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যেতে থাকে পাক হানাদার বাহিনী। প্রথম শত্রুমুক্ত হয় যশোর জেলা। এদিনই সারা দেশের মধ্যে বিজয়ী বাংলাদেশের রক্ত সূর্যখচিত গাঢ় সবুজ পতাকা প্রথম তোলা হয়েছিল। স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে দিবসটিকে স্মরণ করে রাখতে যশোরের জেলা প্রশাসনসহ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স-মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) বৃহত্তর যশোর জেলার (যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল) উপ-অধিনায়ক রবিউল আলম জানান, ’৭১ সালের ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। এসময় যশোর সেনানিবাসসহ পাক আর্মিদের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা ও গোলা নিক্ষেপ করা হয়। স্থলপথেও চলে সাঁড়াশি আক্রমণ। এতে পর্যুদস্তু পাকবাহিনী ৫ ডিসেম্বর থেকে পিছু হটতে শুরু করে। যশোর সেনানিবাস ছেড়ে বিভিন্ন পথে তারা খুলনার গিলাতলা সেনানিবাসের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধকালীন উপ-অধিনায়ক রবিউল আলম জানান, ৬ ডিসেম্বর বিকালের আগে যশোর সেনানিবাস খালি করে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। বিকালে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী সেনানিবাসে প্রবেশ করে তা দখল নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তির আনন্দে উচ্ছ্বসিত মুক্তিযোদ্ধা-জনতার ঢল নামে শহরে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ফেটে পড়েন গোটা জেলার মুক্তি পাগল মানুষ। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজেক আহমেদ জানান, ২৯ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী যশোর শহর ছেড়ে সেনানিবাসে অবস্থান নেয়। ৩০ মার্চ যশোর সেনানিবাসের বাঙালি সৈনিকেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ক্যাপ্টেন হাফিজের নেতৃত্বে। পাকবাহিনীর সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধে লেফটেন্যান্ট আনোয়ারসহ অনেকেই এখানে শহীদ হন। ৩১ মার্চ নড়াইল থেকে হাজারো মানুষের মিছিল শহরে আসে। শহরবাসীর সাহায্যে সশস্ত্র মিছিলটি হামলা চালায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। মুক্তি পান সব রাজবন্দি। এরপর থেকে চোরাগোপ্তা হামলা শুরু হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহমেদ আরও জানান, জুলাই থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের গতিধারা পাল্টে যায়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা যশোর শহর ও অন্যান্য এলাকায় পাকবাহিনীর অবস্থানগুলোতে প্রচণ্ড আক্রমণ চালাতে থাকে। যশোর মুক্তিযুদ্ধের ৮নং রণাঙ্গন। কমান্ডার ছিলেন মেজর মঞ্জুর। অন্যদিকে, পাকবাহিনীর মোতায়েন ছিল ১০৭নং ব্রিগেড। এর কমান্ডার ছিলেন বিগ্রেডিয়ার হায়াত খান। যশোর সেনানিবাস থেকে শত্রু বাহিনী ৬টি জেলা নিয়ন্ত্রণ করত। ২০ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলে অভিযান শুরু করে। পাকবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের শক্তিশালী ঘাঁটি চৌগাছা ঘিরে ফেলে সম্মিলিত বাহিনী। মিত্র বাহিনীর গোলার আওতায় আসে যশোর সেনানিবাস। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক ও লেখক রুকুনউদ্দৌলাহ জানান, ২২ নভেম্বর রাতে পতন হয় চৌগাছার। হানাদার বাহিনী সলুয়া বাজারে তৈরি করে অগ্রবর্তী ঘাঁটি। এ সময় যশোর সেনানিবাসের তিন দিকেই মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসে। এ অঞ্চলের পাকবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান প্রাণ ভয়ে তার অফিস স্থানান্তর করেন খুলনায়। প্রতিরোধ যুদ্ধের শেষ অভিযান চলে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। যুদ্ধে টিকতে না পেরে ৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী পালিয়ে যায় খুলনার দিকে। মুক্ত হয় যশোর জেলা। যুদ্ধবিধ্বস্ত মুক্ত শহরে উড়ে স্বাধীন দেশের পতাকা। এদিকে, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে যশোর মুক্ত দিবসও। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, পুরো মাসটি জুড়েই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধের স্থির ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, চিত্রাঙ্কন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন রয়েছে মাসব্যাপী। যশোর মুক্ত দিবস থেকেই এসব আয়োজন শুরু করা হবে। জেলা সদর ছাড়াও প্রতিটি উপজেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও উদযাপিত হবে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অনুষ্ঠিত হবে দোয়া ও আলোচনা সভা।#

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ