শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আড়াইযুগ পর কেশবপুর কলেজের ৯৭ ব্যাচের মিলন মেলা

আরো খবর

 কেশবপুর প্রতিনিধি: ঈদের পর ১৩ এপ্রিল শনিবার ঘড়ির কাটায় সকাল ১০টা বাজার সাথে সাথে কেশবপুর কলেজ প্রাঙ্গণে একে একে জড়ো হতে শুরু করে ছেলে-মেয়েরা। সময় বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে এর সংখ্যা। ছেলে-মেয়ে সকলে পরিধান করে একই রকম টি-শার্ট। কিছুক্ষণের মধ্যেই যেন কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণের চেহারা বদলে যায়।
বর্ণিল রুপ ধারণ করে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ। আসলে এটি বন্ধুত্বের টানে মিলিত হওয়ার প্রয়াস। কলেজটির ১৯৯৭  ব্যাচের বন্ধুরা আড়াই যুগ পর একত্রিত হয়ে যেন ফিরে যায় সেই কলেজ জীবনের মধুর স্মৃতিতে। সাথে যোগদেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানসহ শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট এস এম রাশিদুল ইসলাম। উচ্ছাসে মেতে ওঠেন সকলে।
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত বন্ধুরা যেন সকল কর্মব্যস্ততা ভুলে গিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করতে মিলিত হয়েছিল এদিন। র‌্যালি, স্মৃতিচারণ, খেলাধুলা, লটারীসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উপভোগ্য হয়ে ওঠে সকলের মাঝে।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আসা পলাশ সিংহ বলেন, যেদিন থেকে শুনেছে সকল বন্ধুরা একত্রিত হবে সেদিন থেকে তার ঘুম হয়না। অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে কবে ঈদ হবে। সবেশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে সে। প্রতিবছরই এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বন্ধুদের ফিরে পেতে চান তিনি।
তারই মত অনুষ্ঠানে যোগ দেয় আব্দুল আহাদ। তিনি পেশায় একজন পশু  চিকিৎসক। দিনরাত পরিশ্রম করেছেন এই অনুষ্ঠান সফল করার জন্য। তিনি বলেন, সফলভাবে অনুষ্ঠানটা সম্পন্ন করতে পেরে খুবই আনন্দিত। সব বন্ধুদের সাথে এতদিন পর দেখা করতে পেরে উৎফুল্ল সে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির প্রধান সাইফুল ইসলাম লিটন বলেন , আড়াইযুগ পর বন্ধুদের ফিরে পেতে রাত-দিন পরিশ্রম করেছেন তিনি। সকল বন্ধুদের এক করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে এটি আরও বড় পরিসরে হবে বলেও জানান তিনি।
২৭ বছরের ব্যবধানে বন্ধুরা দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে গেলেও বন্ধুত্বের টানে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। এমন অনুষ্ঠানে আবারও মিলিত হবে সেই প্রত্যাশা নিয়েই দিনশেষে ফিরে যায় যার আপন নীড়ে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাঈদ, বিশিষ্ট ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম লিটন, এম এম কলেজের প্রভাষক আবু মোস্তফা শিমুল, সরকারি তালা কলেজের প্রভাষক রেবেকা সুলতানা। মার্চেন্ডাইজার আব্দুল আজিজ, কৃষি ব্যাংকের ডিজিএম অহেনুল ইসলাম সজিব, এডুকো বাংলাদেশের  মাসুদ রানা, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক  মহসীন হোসেন, বিশিষ্ট বব্যবসায়ী লিটন খন্দকার, কেশবপুর  পৌরসভার সচিব মোশাররফ হোসেন, পৌরসভার কর আদায়কারী পলাশ সিংহ, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক শামীম আক্তার মুকুল, সাতক্ষীরা ত্রান মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাবলু রেজা, ইউনিয়ন পে এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাসুদ রায়হান প্রমুখ।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে। একে অপরের দীর্ঘ দিনের না বলা কথা, গল্প আড্ডায় মেতে উঠে। তাদের শৈশবের স্মৃতি চারণে ব্যাকুল হয়ে পড়ে ১৯৯৭ ব্যাচের বন্ধুরা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ