প্রেসবিজ্ঞপ্তি: পাঠ্য পুস্তকের কভার থেকে “আদিবাসী” শব্দ যুক্ত গ্রাফিতি সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদে ঢাকায় “সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র জনতা”র এনসিটিবি কার্যালয় ঘেরাওয়ের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশের সামনে উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনায় সজ্জিত “স্টুডেন্টস ফর সবেরেন্টি” সংগঠনের ছাত্রদের পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রগতিশীল ছাত্র সমাজের ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবশের সভাপতিত্ব করেন সুমাইয়া শিকদার ইলা। সাবেক ছাত্র নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিম- উর- রহমান, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা জেলা সমন্বয়ক খবির শিকদার, যুব নেতা শেখ আলাউদ্দীন, শিক্ষক আলাউদ্দীন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুরাইয়া শিকদার এশা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই হামলার দায় রাষ্ট্র এবং প্রশাসনকেই নিতে হবে। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আদিবাসী ছাত্র জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ ঠেকানোর পাঁয়তারা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে! মুছে দেওয়া গ্রাফিতি পুনরায় সংযোজন করতে হবে।
২০২৫ সালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি যুক্ত করা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির একটি বইয়ের পেছন কভারে ছিল “আদিবাসী” শব্দ সংবলিত একটি গ্রাফিতি। যেই গ্রাফিতির সারমর্মে ছিল বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক দেশ। কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনা দ্বারা আচ্ছন্ন একদল শিক্ষার্থী রাষ্ট্রদ্রোহিতার দোহাই দিয়ে “আদিবাসী” শব্দ সংবলিত গ্রাফিতি মুছার জন্য চাপ দেয় এবং এনসিটিবি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে এই গ্রাফিতি মুছে উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়াশীলদের হাতকে শক্তিশালী করে ভিন্ন গ্রাফিতি যুক্ত করে।
তারা পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটির সদস্য রাখাল রাহাকেও অপসারণের দাবি জানায়। এসব মূলত আদিবাসী প্রশ্নে এই গণবিরোধী রাষ্ট্রের নিপীড়ক ভূমিকার দালালি চেতনার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে এনসিটিবি সংবিধানে আদিবাসী শব্দ নেই বলে কারণ দর্শান। যে সংবিধান এখন তথাকথিত “সংস্কার”র পথে সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে গ্রাফিতি থেকে ‘ আদিবাসী’ মুছে দেওয়া গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। “বৈষম্যবিরোধী” ঝাণ্ডাধারীরা আদিবাসীদের সাথে চলমান এই বৈষম্য নিয়ে একটি কথাও বলছে না।
এথেকে প্রমাণিত হয় এরা “বৈষম্যবিরোধিতা”র গলাবাজি করলেও আদতে বৈষম্যবিরোধী নয়। আদিবাসী প্রশ্নেও তা প্রমাণিত হয়েছে। আদিবাসী ছাত্ররাও এখন প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে, যা ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু তাদের এই প্রোগ্রাম ঠেকানোর ঘোষণা দিচ্ছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামে আরেকটি নব্য গজানো সংগঠন। এই ঠেকানোর ঘোষণাও অগণতান্ত্রিক, গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্খার পরিপন্থী এবং উগ্র জাতিয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের লক্ষণ। এর মাধ্যমে যদি কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে তবে এর দায় প্রধানত সরকারকেই নিতে হবে বলে আমরা মনে করি।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে আদিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাই। পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে অবিলম্বে পূর্বের গ্রাফিতি সংযোজন করার দাবিতে ছাত্র-জনতাকে সোচ্চার হবার আহবান জানাই। একইসাথে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী জনগণের প্রতি আহ্বান, জাতিগত নিপীড়ন থেকে মুক্ত হওয়া এই সামগ্রিক নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা পরিবর্তনের সাথে জড়িত। এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের বিপ্লবী সংগ্রামে সামিল হোন।

