শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে যেভাবে ফেমাস হলেন যশোরের ছেলে এস এম সরাফত হোসেন

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: কেউ জানে কেউ জানে না আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে কিভাবে ফেমাস হলেন যশোরের অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে এস এম সরাফত হোসেন। যার সুখ্যাতি এখন দেশ ছাপিয়ে বহির্বিশে^ ঢেউ খেলছে। অ্যাথলেটদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে তার নাম।

সর্বশেষ গতমাসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ভেটেরান অ্যাথলেটিস্ক চাম্পীয়নশীপ প্রতিযোগিতায় তিনি ৪ টি স্বর্ণ পদক জয় করে ইতিহাস গড়েছেন। তার এই কৃতিত্ত্ব বাংলাদেশ কাস্টমসকে নিয়ে গেছে অনন্য উুচ্চতায়। সরাফত হোসেন বাংলাদেশ কাস্টমস পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য। বর্তমানে তিনি সহকারী কমিশনার হিসেবে যশোরে কর্মরত আছেন। তাঁর কৃতিত্ব এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এবছর ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স গেমসে কলিফাই করেছেন তিনি। আগামী মাসে সুইডেন্টে এই প্রতিযোতিা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রচার বিমুখ সরাফত হোসেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার নিভৃত পল্লী গোপীনাথপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ৮ ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বতীয়। কিশোর বয়সেই খেলাধুলার প্রতিছিল তাঁর অদম্য ইচ্ছা। মাধ্যমিকে লেখা পড়া করেন এলাকার নাউলি ডিআইএন জিএম স্কুলে। ওই সময়ে বিভিন্ন ইভেন্ট অংশ নিয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন তিনি। এতে তার ইচ্ছাশক্তি বাড়লেও বাধা হয়ে দাড়ান পিতা শেখ মোহম্মদ রাশেদ আলী।

খেলার জন্য তার পিতার বকনি এবং মারধর খেতে হয়েছে। তাত্ওে ছেলেকে আটকাতে না পেরে বাড়ি থেকে দুবার তাড়িয়ে দেন রাশেদ আলী। একবার তিনি তার সতীর্থ কেশবপুরের কৃতি খেলোয়াড় নজরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে উঠেন। কোন বাধা তাকে আটকাতে পারেনি।

লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলার মাঠে ছিল তার নিয়মিত অনুশীলন। দৈনিক প্রজন্ম একাত্তরের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন সরাফত হোসেন।

তিনি শৈসবের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেন, একদিন স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে শুনি পিতা মাকে আমার খেলা নিয়ে বকবকি করছে। তার উত্তরে মা বল্লেন,” তুমি শুধু শুধু তাকে খারাপ বলো, কিন্তু পাড়ার সকলেই তো তার প্রসংশা করে”। ”তাছাড়া তার লেখা পড়ায় তো কোন ক্ষতি হচ্ছে না’ সে ক্লাশে আগেও যেমন প্রথম ছিল এখনওতো তাই আছে”। তিনি বলেন, মায়ের এই মৌণ সমর্থন তার বুক ভরে যায়। কোন বাধা তাকে আটকাতে পারেনি।
তিনি বলেন, তার এই বিরল কৃতৃত্বি আরো একজন বড় মাফের অ্যথলেটের প্রেরণা রয়েছে। তিনি হচ্ছেন এই গোপীনাথপুর গ্রামের মুজিবর রহমান মল্লিক। যিনি ১৯৮৪ সালে নেপালের কাঠমুন্ডতে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ গেমসে অংশ নিয়ে ২টি স্বর্ণ পদক জয় করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেছিলেন।
এস এম সরাফত হোসেন জাতীয় পর্যয়ের ইভেন্টে প্রথম পা রাখেন ১৯৭৯ সালে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত জুনিয়র লেবেলের এই প্রতিযোগিতায় হাই জাম্পে দেশসেরা খোলোয়াড় হিসেবে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। শুধু তাই নয় তিনি ওই দিন রাতে ঢাকায় বসে প্রথম নিজের চেহারা টিভির পর্দায় দেখেন।

খেলার সংবাদটি ওই দিন বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার করেছিল। এটিছিল তার জীবনে অন্যরকম অনুভুতি; অন্যরকম প্রাপ্তি।
তাঁর এই অর্জনে গোটা এলাকায় খুশীর বন্যা বয়ে যায়।পরে ১৯৯১ সালে সিনিয়র লেবেলে স্বর্ণ পদক জয় করে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন কৃতি এই খেলোয়াড়। এরপর তার আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। আন্ত এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে শতাধিক স্বর্ণ পদক জয় করে কালজয়ী রেকর্ড অর্জন করেছেন।
এস এম সরাফত হোসেন বলেন, শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত খেলাধুলা অনুশীলন খুবই জরুরী। যা আমরা বাঙ্গালীরা খুবই কম করি। যে কারণে বয়স ৫০ পার হলে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে যায়। নানা রোগ বালায়ে কর্মক্ষমতা হারায়। কিন্ত বিশে^র অনেক দেশ এর ব্যতিক্রম।

তিনি বলেন, সরকারি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বাংলাদেশে এখন ৫৫ ঊর্ধ অ্যাথলেটের সংখ্যা মাত্র ৩ জন। যারা নিয়মিত মাঠে নামেন।
অপর দিকে বর্হিবিশ্বে ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়সের অ্যাথলেটরা নিয়মিত অনুশীলন এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, স্বর্ণ জয়টা বড় কথা নয়। শরীর স্বাস্থ্য সুন্দর সবল রাখা এবং সুটম দেহের জন্য নিয়মিত অনুশীলন দরকার।
অবশ্যই তা কিশোরকাল থেকেই। বাংলাদেশের যুব সমাজ এখন চরম হুমকির মুখে। তাদেরকে যোগ্য নাগরিক এবং মানব সম্পদে পরিনত করতে শরীর চর্চার প্রতি আরো যতœবান হওয়া দরকার বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক ভেটেরান অ্যাথলেটিস্ক চাম্পীয়নশীপ জয়ী এই অ্যাথলেট।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ