নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের বহু বিতর্কিত খাজুরার নিউ মাতৃসেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে অপচিকিৎসায় আবারও রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত উন্নতি কর (৩৫) সদর উপজেলার সেকেন্দারপুর গ্রামের নিরাঞ্জন কুমার করের স্ত্রী।
মৃতের স্বামী নিরাঞ্জন কুমার কর জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে জরায়ুর টিউমারে ভুগছিলেন। বুধবার বিকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন তাকে নিউ মাতৃসেবা ক্লিনিকে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভর্তি করে। ওই দিন রাতে সেখানে দায়িত্বরত ডাক্তার সোমাইয়া তুলি রোগী দেখে জানান, দ্রুত রোগীকে অপারেশন করাতে হবে। রাতেই উন্নতি করের জরায়ুর টিউমার অপারেশন করানো হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোর রাতে রোগীর মৃত্যু হয়। এ সময় ক্লিনিক কতৃপক্ষ জানায়, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মৃত রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। রোগীর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স যোগে কিছু দুর আসলে বুঝতে পারে বহু আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরে মৃতের স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে চলে যায়।
মৃতের স্বামী নিরাঞ্জন কুমার করের অভিযোগ, অজ্ঞান ডাক্তার ছাড়াই অপারেশন কক্ষে কনসালটেন্ট নিজেই রোগীকে অজ্ঞান করেছেন। এ জন্য রোগীর আর জ্ঞান ফেরেনি। অপারেশনর করাবার আগে রোগীকে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়নি। রোাগী আগে থেকেই দুর্বল ছিলো। মৃত্যুর পার রোগীর শরীর সম্পর্ন সাদা হয়ে গেছে। রক্তের জন্য তাদের আগে থেকে বলা হয়নি। এ ক্লিনিকের অপচিকিৎসায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র জানায়, এ প্রতিষ্ঠানের নেই লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ডাক্তার ও নার্স। প্যাথলজি ডাক্তারের স্বাক্ষর ছাড়াই দেয়া হয় রিপোর্ট। কম্পিউটারে সাজানো থাকে রিপোর্ট ফাইল। রোগীর তথ্য টাইপ করে প্রিন্ট দিলেই বেরিয়ে আসে নানা ধরনের রিপোর্ট। নকল করা হয় চিকিৎসকের স্বাক্ষরও। এমন ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই চিকিৎসা দিচ্ছে নিউ মাতৃসেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে।
এ বিষয়ে মাতৃসেবা কি্লিনিকের পরিচালক ফারুক হোসেন বলেন, এমন কোন ঘটনা আমাদের এখানে ঘটনি।
সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো কাগজপত্র নেই। প্রতিষ্ঠানটি খাতা কলমে বন্ধ থাকার কথা। একাধিক বার তাদের সতর্ক করা হলেও গোপনে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, জেলায় কোনো অবৈধ প্রতিষ্ঠান চলবে না। ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই নিয়মের ভিতরে থেকে করতে হবে। ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অবৈধ এ প্রতিষ্ঠানসহ সকল বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

