সমীর রায়, আশাশুনি :
আশাশুনিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইটভাটা শ্রমিকের দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে পালিয়েছে এক ঘরজামাই। উধাও হওয়ার ২৩ দিন পর ঢাকার এক বাসায় গৃহবধূকে ফেলে তার অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ঘরজামাইয়ের বিরুদ্ধে। স্বামী সংসার ফেলে প্রেমিক ঘরজামাই দ্বারা প্রতারিত হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে তার বিরুদ্ধে রবিবার আশাশুনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক নাজিমুদ্দিন সানার স্ত্রী
মনিরা আক্তার (২৪)।
তিনি বলেন, শ্রীপুর গ্রামের মান্নান ঢালীর ছেলে মৎস্যজীবী মোঃ ইসরাফিল হোসেন (২৮) এর সাথে কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়। সে নিজের বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন রেখে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে যখন জানতে পারি ইসরাফিল বিবাহিত, তার একটি সন্তান আছে এবং সে নিজে প্রতাপনগর গ্রামের একজন ঘরজামাই তখন আমি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করি। কিন্তু সে আমাকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে ব্লাকমেইল করা শুরু করে।

এক পর্যায়ে গত ২৫ জুলাই বিকালে ৬ বছরের ছেলেকে স্বামীর বাড়িতে রেখে ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে ইসরাফিলের সাথে যেতে বাধ্য হই। যাবার দিন আমি বাড়িতে থাকা স্বামীর গচ্ছিত ৮০ হাজার টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাই। সে আমাকে ঢাকায় নিয়ে প্রথমে এক হোটেলে ওঠায়। একদিন পর আমাকে স্ত্রী পরিচয়ে আব্দুল্লাহপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে তোলে। কোন উপার্জনের চেষ্টা না করে সে আমার গচ্ছিত টাকা দিয়ে জুয়া খেলা শুরু করে।
এরমধ্যে আমি তাকে বিয়ের কথা বললে সে নানাভাবে এড়িয়ে যেতে থাকে এবং আমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ২২ আগস্ট সকাল ১০টায় শিশু কন্যা সহ আমাকে ঢাকার বাসায় ফেলে রেখে আমার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর আমার সাথে যোগাযোগ করে না। এর কয়েকদিন পরে আমি যশোরে থাকা আমার বোনের সাহায্য নিয়ে আশাশুনিতে ফিরে আসি। এখন আমার বাবা মা আমাকে জায়গা দিচ্ছে না। ইসরাফিল যোগাযোগ করছে না আবার স্বামীর বাড়িতে ফেরার মুখ নেই। কোলের শিশুকে নিয়ে আমি প্রায় ১০ দিন অনাহারে অর্ধাহারে থেকে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সংসার ভেঙ্গে সন্তান সহ গৃহবধূর জীবনকে অথৈ পানিতে ফেলার জন্য প্রতারক ইসরাফিলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আত্মসাত করা অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই গৃহবধূ।
এ ব্যাপারে আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ সামছুল আরেফিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা এজাহার পেয়েছি, অফিসার তদন্ত করছেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

