সমীর রায়, আশাশুনি :
আশাশুনিতে একটি পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) এর মালামাল ভাগাভাগি করে নিয়েছে স্থানীয় মেম্বর ও ইপিআরসির এক কর্মী। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানালে তারা বলেন, আমরা শুধু কারিগরি সহযোগিতা করে থাকি। এরপর তা থাকলো কি গেলো আমাদের দেখার বিষয় না। ঘটনাটি ঘটেছে দরগাহপুর ইউনিয়নের খাসবাগান গ্রামে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, খাসবাগান জামে মসজিদের পুকুরে ২০২৩ সালে ২৫০ পরিবারের সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে গ্রীড শক্তি চালিত একটি পিএসএফ স্থাপন করা হয়। জিওবি ইউনিসেফ বাংলাদেশের অর্থায়নে (প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আশাশুনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সহযোগীতায় ছিল এনজিও ইপিআরসি। স্থাপনের পর থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার লিটার সুপেয় পানি দিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো তাদের চাহিদা পূরণ করেছে।
স্থানীয় সোহরাব হোসেন জানান, গত একমাস আগে ইপিআরসির কর্মী শ্রীধরপুর গ্রামের নিজামুদ্দীনের ছেলে এনামুল হক সাবমার্সিবল মোটরটি মেকানিক দেখাতে হবে বলে খুলে নিয়ে যায়। এর ১৫ দিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ মোড়লের ছেলে হারুন মোড়ল ও তার সহযোগী কুদ্দুস মোড়ল সহ মজিদ গোলদার দিন দুপুরে এসে ৩ হাজার লিটারের একটি পানির ট্যাংক, একটি টিউব ওয়েল, বৈদ্যুতিক মিটার, লোহার ঢাকনা সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় মালামাল একটি ভ্যানে করে নিয়ে গেছে। লোহার ঢাকনা খুলে নেওয়ার ফলে পড়ে থাকা পাকা পানির ট্যাংকটি শিশুদের জন্য মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জিওবি ইউনিসেফ বাংলাদেশ লেখা পানির ট্যাংকটি ওই গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ইনতাজ মোড়লের ছেলে ভ্যান চালক আছাফুর রহমানের ঘরের সামনে স্থাপন করা হয়েছে। টিউবওয়েলটি মেম্বার নিজ বাসভবনে রেখেছেন বলে জানা গেছে।ভ্যান চালক বলেন, লতিফ মেম্বার আমাকে দিয়েছে তাই আমি নিয়েছি।
লতিফ মেম্বার বলেন, এসব মালামাল এলাকায় আনতে আমার ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পিএসএফটি বন্ধ ছিল তাই আমরা নিয়ে এসেছি।
ইপিআরসি স্টাফ এনামুল হক বলেন, এক বছর আগে আমিওই সংস্থায় কাজ করতাম। তখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল স্যারকে বলে মোটরটি মেকানিকের কাছে নিয়েছিলাম, আর ফেরত নেওয়া হয়নি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটি ইউনিসেফের, আমরা কারিগরি সহযোগিতা করেছি মাত্র। স্থাপনের পর স্থানীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়ে গেলে আমাদের আর দায়িত্ব থাকে না। তাছাড়া ইউনিসেফের এ প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে, ইপিআরসি ও নেই কাকে ধরবো বলেন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, দরগাহপুর ইউনিয়নে এরকম ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তার কি অবস্থা, কোন তালিকা আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী বলেন, তালিকা নেই, প্রকল্প শেষ হয়ে গেলে ইউনিসেফকে সব বুঝিয়ে দিতে হয়েছে। আপনারা ওদের সাথে কথা বলেন।
একটি প্রকল্পের মালামাল এভাবে লুটপাট হয়ে গেল অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন দায় নেই এ বক্তব্যকে ঘিরে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুপেয় পানির আধারটি পূণরায় চালু করতে এবং লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী পরিবারগুলো।

