রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ইলিশের সুগন্ধ ফিরিয়ে আনতে গবেষণা চলছে : মৎস্যমন্ত্রী

আরো খবর

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : সংগৃহীত
এনটিভি অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ইলিশের সুগন্ধ ফিরিয়ে আনতে দেশে গবেষণা চলছে। শুধু গন্ধই নয়, এর আকার ও প্রাকৃতিক বিচরণক্ষেত্র ফেরাতেও করা হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও বিজ্ঞানীরা এসব গবেষণা করছেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে মৎস্য অধিদপ্তর পরিচালিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্যমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান।

মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ রক্ষা রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই জাটকা নয় বড় আকারের ইলিশ মৎস্যজীবীরা আহরণ করবেন। এ জায়গায় সবাই মিলে সহযোগিতা করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশের স্বাদ, রং, গন্ধ, প্রাকৃতিক বিচরণক্ষেত্র এসব নিয়ে আমাদের গবেষকরা প্রচুর গবেষণা করছেন। গবেষণা থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আমরা ইলিশকে পুরাতন যুগের ইলিশের জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। ইলিশ হবে সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর (ইলিশ) সুগন্ধ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থা ও বিজ্ঞানীরা কাজ করছে। তারা কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যতই প্রতিকূল পরিবেশ আসুক সেটা মোকাবিলা করতে হবে।’

ইলিশকে জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ সাধারণ মাছ নয়, এটা আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষার জন্য সবাই মিলে কাজ করার বিকল্প নেই। আকার বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে ইলিশের সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় আমাদের দেশে। ইলিশের ভৌগোলিক নির্দেশক সনদ আমরা পেয়েছি। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ইলিশ আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। সেটা ধরে রাখার জন্য আমাদের সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বেপরোয়া বালি উত্তোলন, নদীর গতি প্রকৃতি পরিবর্তন অথবা পানিতে তৈলাক্ত ও বিষাক্ত সামগ্রী ছাড়ার কারণে ইলিশের পরিবেশ নষ্ট হয়। ইলিশ স্পর্শকাতর মাছ। উপযোগী পরিবেশ না পেলে গভীর সমুদ্র থেকে নদীতে এসে আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। এ জন্য ইলিশের অভয়াশ্রম সৃষ্টি করা ছাড়া ইলিশ ধরে রাখা যাবে না।’

ইলিশ সুরক্ষায় সম্পৃক্তদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ সুরক্ষায় শৈথিল্যের সুযোগ নেই। যদি মনে করা হয়, ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে এখন আর কিছু করার দরকার নেই, তাহলে আবার একটি বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।’

কর্মশালায় জানানো হয়, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার ইলিশ আহরণকারী জেলে পরিবারকে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হবে। এ প্রকল্প ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জাটকা ও ইলিশ জেলেদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখবে। প্রকল্প সমাপ্তির পর ইলিশের উৎপাদন ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং পদ্মা নদীসহ অন্যান্য নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

মৎস্য অধিদপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হেমায়েত হুসেন, নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী প্রমুখ

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ