সাদনান রহমান সিয়াম, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলায় এখন ভোরের বাতাসে মিশে থাকে মিষ্টি এক সুগন্ধ। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার ধারে, পুকুরপাড় কিংবা বিস্তীর্ণ বাগান সবখানেই আমগাছের ডালে ডালে মুকুলের ছড়াছড়ি। ঋতুরাজ বসন্তের বার্তাবাহক হয়ে এই মুকুল জানিয়ে দিচ্ছে, আর কয়েক মাস পরেই পাকা আমে রঙিন হবে চারদিক।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গাছের প্রতিটি ডাল যেন হলুদ-সবুজ মুকুলে মোড়া। কোথাও কোথাও পাতাই দেখা যায় না। বাতাসে ভেসে আসে মৌ মৌ গন্ধ, যা সহজেই মনকে বিমোহিত করে। স্থানীয়দের মতে, এমন মুকুল আর এমন সুবাস ভালো ফলনেরই ইঙ্গিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাতক্ষীরা জেলাও স্থানীয়দের মুখে মুখে ‘আমের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বিশেষ করে কলারোয়া উপজেলা এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠছে নতুন নতুন আমবাগান। ছোট ও মাঝারি গাছে এ বছর তুলনামূলক বেশি মুকুল এসেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
হিমসাগর, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলিসহ বিভিন্ন জাতের গাছে ইতোমধ্যে মুকুল দেখা দিয়েছে। পুরোপুরি ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। মুকুল আসার পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিকরা। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে পরিচর্যা—আগাছা পরিষ্কার, সেচ দেওয়া, গাছের যতœ।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রোগবালাই প্রতিরোধে। চাষিদের ভাষ্য, মুকুলের সময়টিই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। এ সময় ছত্রাক বা পোকার আক্রমণ হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর আম স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে পতিবছর বায়রের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হয়ে থাকে।
একজন বাগান মালিকের কথায়, “গাছভর্তি মুকুল দেখলে মন ভরে যায়। এই মুকুলই আমাদের স্বপ্ন, আমাদের আশা। এখন শুধু চাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকুক, তাহলেই ভালো ফলনের আশা করছি।”

