সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের ভয়াবহতা কেটে গেছে।
সাতক্ষীরা উপকূলের বুড়িগোয়ালীনি এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রমেছা খাতুন, আজিজ সরদারসহ অনেকে জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল জেলাজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। অনেক ফলজ ও বজন বৃক্ষ উপড়ে গেছে।
আশাশুনির প্রতাপনগর এলাকার মাসুম হোসেন জানান, বর্তমানে প্রতাপনগর অঞ্চলে ঝোড়ো হাওযা এখনও বইছে। বাতাসে নদীর পানিতে বড় বড় ঢেও সৃষ্টি হচ্ছে।
শ্যামনগরের সাবেক প্রকৌশলী শেখ আফজাল বলেন, রিমালের কবল থেকে সাতক্ষীরার উপকূল এখন প্রায় বিপদমুক্ত বলা যায়। তবে সুন্দরবন এলাকার নদ-নদী এখনো উত্তল রয়েছে। হালকা ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকায় নদ-নদীতে ঢেউ আচড়ে পড়ছে উপকূলে। শুধু বেড়িবাঁধের দিকে খেয়াল রাখতে হবে যেন নদীর পানি ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।
শ্যামনগরের সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল সাতক্ষীরা উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। অনেক গাছগাছালি উপড়ে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বয়ে চলছে। নদ-নদীগুলো এখনও উত্তাল। জোয়ারের পানি এখনও কমেনি।
তিনি আরো বলেন, বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি নরম হয়ে গেছে। ভাটিতে পানি কমার কথা থাকলেও পানি কমছে না। এতে অনেক এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দিতে পারে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা জানা যায়নি।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি সাতক্ষীরা অতিক্রম করেছে। রাত ১টায় এখানে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ৭২ কিলোমিটার। সন্ধ্যা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত এই জেলায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখনও (সোমবার রাতেও) ঝড় বৃষ্টি অব্যহত আছে।

