এম.এইচ.উজ্জলঃ ব্রয়লার মুরগী গরিবের খাদ্য থাকলেও তা এখন দিন দিন বড়লোকের খাদ্যতে পরিনত হচ্ছে। এ মুরগী দেশের মানুষের বড় একটি অংশের আমিষের চাহিদা পূরণের ‘সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী’ উৎস। একই সাথে তুলনামূলক কম দাম থাকায় চাহিদা রয়েছে সব শ্রেণির মানুষের কাছেই। মূলত কম আয়ের ভোক্তারাই বেশি নির্ভরশীল এ মুরগির ওপর।
গরু ও খাসির মাংস নাগালের বাইরে থাকার কারণে অনেকেই খাবার তালিকায় বিকল্প হিসেবে মুরগির মাংস বেছে নিয়েছে। তবে এখন তাতেও স্বস্তি নেই। বেশ কিছুদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী মুরগিসহ সকল মাংসের দাম। এক কথায় বাজার এখন অস্থির। ব্রয়লারের দাম দিনে দিনে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
সরেজমিন রবিবার যশোর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্টান ও বড় বাজারে ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে। এদিকে দাম বেড়েছে সোনালি মুরগিরও বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। একই সাথে প্রতিকেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকা।
যা এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার ছিল ১৬৫ থেকে ১৭৫, সোনালি ২৩০ থেকে ২৪০ ও দেশি মুরগি ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকা।
এদিকে আরেক দফা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে বিক্রি হতো ৬৬০ থেকে ৬৭০ টাকায়। একই সাথে বেড়েছে খাসির মাংসের দামও।
দাম বাড়ার কারণ নিয়ে মিশ্র মতামত বিক্রেতাদের। অতিরিক্ত দামে দিশেহারা কম আয়ের ভোক্তারা। তারা বলছেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এত দাম দিয়ে মুরগি কেনা কষ্টকর। আর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এর আগে কখনোই এত দামে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়নি।
এ বিষয়ে গরুর মাংস বিক্রেতা বাবু বিশ্বাস বলেন, দেশে সকল জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এরি সাথে গো খাদ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে এ কারনে বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে গরুর মাংশের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রয়লার মুরগী বিক্রেতা রাকিব হাসান বলেন, ঠান্ডার ভিরতে খামারের অনেক মুরগী মারা গেছে চাহিদার তুলনাই মুরগীও কম পাওয়া যাচ্ছে এবং মুরগীর খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়াই মুলত ব্রয়লার মুরগীর দাম বেড়ে গেছে। তবে ৮-১০ দিনের ভিতর দাম আবার কমে যাবে।
কথা হয় ব্রয়লার মুরগী কিনতে আসা রিকশা চালক আব্দুল জলিলের সাথে তিনি জানান, আমার ৭ বছরের ছোট ছেলে রাতুল কিছুদিন ধরে মুরগীর মাংশ খেতে চাচ্ছে। আমি সারা দিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করি তা মহাজন কে দিয়ে অল্প কিছু টাকা বেঁচে থাকে। সবকিছু কিনে খেতে হয় তাই মুরগী কিনতে পারিনা তাছাড়া মুরগীর দামও বেড়েছে। আজকে একটু ভাড়া বেশি পায়ছি তাই মুরগী কিনতে আসলাম। কিন্তু আজকে কিনতে পারছি, যে ভাবে মুরগীর দাম বাড়ছে তাতে মনে হয় আর কোন দিন কিনতে পারবোনা।

