শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

এলাকাবাসির তোপের মুখে কাজ ফেলে পালালেন ঠিকাদার

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃসাতক্ষীরা আশাশুনি ও তালা উপজেলায় রাস্তার কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যাবহারে এলাকারবাসির তোপের মুখে কাজ ফেলে পালিয়েছেন রাকা এন্টার প্রইজের সত্তাধিকারি ঠিকাদার তপন চক্রবর্তী । চলতি বছরের বুধহাটা থেকে গুনাকরকাটি ও পাটকেলঘাটা থেকে দলুয়া সড়কে সংস্কারে কাজে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যাবহারের অভিযোগ রয়েছে সংক্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , দুই বছরের বেশি সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের যোগসাজশে চরম অবহেলায় সড়কে এ অবস্থার সৃষ্ঠি হয়েছে বলে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর । চলমান প্রকল্পে ধীরগতির কারনে এলাকায় ধুলোবালির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। পাটকেলঘাটা হতে দলুয়া কাজের আরো খারাপ অবস্থা বিদ্যমান।এছাড়াও চলমান প্রকল্পের একাধিকবার সময়বৃদ্ধিকে এ অবস্থার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন তারা ।

সরেজমিন গেলে ,বুধহাটা থেকে বাঁকা সড়কে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে থাকে। এছাড়া সড়কের পাশে গড়ে উঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি, প্রতিদিন ধুলোয় ধূসর হয়ে যাচ্ছে। যানবাহন চলাচলের সময় পথচারী কিংবা অন্য ক্ষুদ্র যানবাহনে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও পথচারীদের চলাচল করতে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে। অন্যদিকে ধুলোর কারণে এ সড়কের দু’ধারে বসবাসকারী গ্রামবাসীর দুর অবস্থার শেষ নেই । ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে বাতাসে ধুলোবালি থাকায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় পথচারীরা শ্বাসকষ্ট, এলার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। আশাশুনি এল জি ই ডি প্রকৌশলী নাজিমুল হোসাইন ও তালা এল জি ই ডি প্রকৌশলী রথিন্দ্র নাথ হালাদার জানান, কুল্যার মোড় থেকে গুনাকরকাটি বাজার পর্যন্ত সোয়া এক কিঃ মিঃ ১ কোটি ৩০ লাখ ও তালায় ৪.২ কিঃ মিঃ এক কোটি ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পান তালার রাকা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান । ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে কিছু কাজ করে এবং চলতি বিলও উত্তোলন করেছে রাকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তপন চক্রবর্তী। চলতি বছরের জুনে চলমান প্রকল্পের শেষ সময়। কিন্তু ঠিকাদার তপন চক্রবর্তী কাজের ম্যাকাডাম (খোয়ার কাজ) প্রায় একবছর ফেলে রেখেছে।

অনেকবার নোটিশ করেছি কিন্তু কাজ করছে না তিনি। গুনাগারকাটির স্থানীয় বাসিন্দা রফিক,জুয়েল,মামুন,রনি মারুফ বলেন সড়কের ভোগান্তির সংবাদ প্রকাশে ফের নিম্নমানের সামগ্রি নিয়ে কাজ শুরু করে ঠিকাদার। নিম্নমানের সমগ্রী ব্যাবহারে বাঁধা দেয় এবং অফিস কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাজ শুরু করলে এলাকাবাসিরা ধেঁয়ে আসে এসময় ঠিকাদার ভো-দৌড়ে পালান । ওই এলাকার পল্লী চিকিৎসক রেজাউল্লাহ হক বলেন, সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে ধুলোবালিতে পথচারীরা শ্বাসকষ্ট, এলার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ । প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করতে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে । তিনি আরো বলেন গর্ভবতী নারীদের সড়কে চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে রাস্তায় চলাচল করতে। দ্রুত সময়ে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি ।

ওদিকে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, জনবহুল এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে থাকে। সড়কে ধুলোবালির পরিমাণ অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যে কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হতে পারছে না।।

এ বিষয়ে মেসার্স রাকা এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী তপন চক্রবর্তীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তায় যদি কোন নিম্ম মানের সামগ্রী থাকে তাহলে আমি সেটা পরিবর্তন করে দিব। কাজ থেকে
পালানোর কোন সুযোগ নেই আমার।আপনার আপতত চুপ থাকেন
আমি আপনাদের সাথে দেখা করবো।
সাতক্ষীরা এল জি ই ডি অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন বলেন,তপন আর একটা কাজ শুরু করছে সেটা শেষ করে এগুলো শুরু করবে বলে জানিয়েছে। নিম্নমানের মানের সামগ্রী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ