স্বর্গীয় পরিবেশে থেকেও কখনও কখনও নরকের মতো মনে হতে পারে। তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন কুমার দাসের গতকাল তেমন কিছু মনে হয়েছে কিনা, জানা নেই। কারণ, তাদের ভালো করার ম্যাচে বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। ৫১ বল হাতে রেখে ভারতের বিশাল জয়।
পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের এমন পারফরম্যান্স আড়াল করে দিয়েছে বিশ্বকাপে টাইগার ওপেনিং জুটির রেকর্ড ও লিটন-তানজিদের হাফ সেঞ্চুরির উন্মাদনা। যেটুকু ভালো লাগা ছিল, সেটুকুও উবে গেছে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ওপেনিং জুটিকে কাঠগড়ায় তোলায়। তিনি মনে করেন, সেট হওয়ার পর আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল ওপেনিং জুটির।
বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে সেট হতে পারেনি ওপেনিং জুটি। যেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে দলের পারফরম্যান্সে। গতকাল পুনেতে ভারতের বিপক্ষে খরা কেটেছে। তরুণ তানজিদ তামিমের ব্যাটে রান এসেছে। ৪৩ বলে ৫১ রান তাঁর। লিটন খেলেন ৬৬ রানের ইনিংস।
শান্ত মনে করেন, জুটি গড়ে ওঠার পর ইনিংস লম্বা করতে হতো, ‘ওপেনিং জুটি রান করেছে, এটা ভালো দিক। বিশেষ করে তানজিদ হাসান রান করেছে। তার ওপর আমাদের আস্থা ছিল। তবে আরও দায়িত্বশীল হতে পারত ওপেনিং জুটি। কেউ একজন ১২০ করলে ভিন্ন কিছু হতো। আমি মনে করি, সেট হলে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
বাংলাদেশের শুরুটা ভালো ছিল না। পাওয়ার প্লের প্রথম ৫ ওভার থেকে ১০ রান তুলেছে। লিটন-তানজিদ আক্রমণাত্মক হওয়ায় পরের ৫ ওভার থেকে উঠেছে ৫৩ রান। কিন্তু তানজিদের আউটের পর এলোমেলো হতে থাকে। শান্ত, মিরাজ ও হৃদয়রা দ্রুত আউট হন। নিম্নমুখী হতে থাকে রান রেট। সাড়ে ছয় থেকে এক পর্যায়ে সাড়ে চারে নেমে আসে গড়। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৬ রান করায় টেনেটুনে আড়াইশ রানে পৌঁছায় দলীয় স্কোর। আসলে ১৫৯টি ডট বল খেলা দলের পক্ষে ২৫৬ রান করতে পারাও সৌভাগ্যের।
ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের পর ভারতের কাছে বাজে হারে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন ফিকে হচ্ছে। বাংলাদেশ যে মানের ক্রিকেট খেলছে, তাতে বাকি পাঁচ ম্যাচ থেকে একাধিক জয় পাওয়া নিয়েও শঙ্কা।
শান্তর কাছে জানাতে চাওয়া হয়েছিল, এই বিশ্বকাপ থেকে আর কী পাওয়ার আছে। তিনি বলেছেন, ‘এখনও সেরা ব্যাটিংটা করা হয়নি। আশা করি, আমরা সামনে ভালো কিছু করতে পারব। একটি ভালো ম্যাচ সবকিছু বদলে দিতে পারে। এখনও পাঁচ ম্যাচ বাকি, চেষ্টা করব জেতার।’
মিক্সড জোনে এসেছিলেন হাফ সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বিশ্বকাপটা একঘেয়ে মনে হচ্ছে কিনা। বাঁহাতি এ ব্যাটারের উত্তর ছিল, ‘না। প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার। আমরা ভালো করছি না। চেষ্টা করব ভালো করতে। হাতে এখনও পাঁচ ম্যাচ আছে। হয়তো ভালো করব।’

