কেশবপুর প্রতিনিধি:কেশবপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও সব্যসাচী লেখক মুহম্মদ শফি’র রোববার ৬৭তম জন্মদিন । ১৯৬০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির এই দিনে যশোর জেলার কেশবপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ভবানীপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা আফসার আহমদ সিদ্দিকী ও মাতা সবুরননিসা সিদ্দিকা।
মুহম্মদ শফি প্রায় চল্লিশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে দুটি কলেজ প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মতিঝিল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতার পাশাপাশি গ্রন্থাগার পরিচালকের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে তিনি কেশবপুর পৌর শহরের ভবানীপুর নিজ বাড়ি মাতৃছায়ায় অবসর জীবনযাপন করছেন। তাঁর আত্মজীবনী “বিষাদ আমার আনন্দে আমি” প্রকাশের অপেক্ষায়।
মুহম্মদ শফি লিখেছেন সাহিত্যের সকল শাখায়। তাঁর লেখা প্রকাশনার পরিমানও বিপুল। কবিতা, আঞ্চলিক ভাষার কবিতা, নাটক, উপন্যাস, ছোটগল্প, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ-গবেষণা, জীবনী, ইতিহাস, পাঠ্যপুস্তক, সম্পাদনা ইত্যাদি মিলে তাঁর এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থ ৮৭টি। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি দেশ ও বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।
মুহম্মদ শফি জাপান রাজপরিবারের পুরস্কৃত কবি।এছাড়াও তিনি দেশের বাইরে সম্মানিত হয়েছেন চীন, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ও ভারত থেকে। দেশেও পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন অর্ধশতাধিক।পেয়েছেন কাব্যাচার্য, বঙ্গশ্রী, নাট্যভূষণ ও ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার অব মেরিট (ক্যামব্রিজ, লন্ডন) খেতাব।
মুহম্মদ শফি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য ও বাংলাদেশ সাহিত্য সেবা সংসদ (বাসাসেস)-এর প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান।
উল্লেখ্য, কবি শফির জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর ভবানীপুরে কবির নিজ বাড়িতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লেখক, কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও কবি মুহম্মদ শফির লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তবে, এবছর কবির শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর নিজ বাড়িতে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে না। তিনি তাঁর সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করেছেন।

