রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কষ্টে দিন পার করছে শ্যামনগর উপকূলে বসবাসরত জেলে পরিবারগুলো

আরো খবর

 

সাতক্ষীরা:

কষ্ট দিন পার করছে দেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত সুন্দরবনে মাছ শিকার করে জীবন ধারণকারী জেলে পরিবারের সদস্যরা।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় সুন্দরবনে তিন মাসের জন্য কাকড়া, মাছ ও পর্যটক ভ্রমণসহ সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এই অবস্থায় বিপাকে পড়েছে উপকূলের সুন্দরবনের নির্ভরশীল সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। বিশেষ করে ট্রলার চালক, মৌয়াল, বাওয়ালী, পর্যটক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এক প্রকার বেকার হয়ে পড়েছেন। গত ১ জুন থেকে এ পাশ পারমিট বন্ধ হয়েছে সুন্দরবনে।

শ্যামনগর উপজেলায় মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল রয়েছেন নিবন্ধনকৃত ২৩ হাজার জেলে বাওয়ালি। উপকূলীয় এলাকার ২৩ হাজার পরিবারের মানুষ বর্তমানে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাকড়া আহরণের জেলে হানিফ গাজী বলেন, সারা জীবন সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ধরে সংসার নির্বাহ করে এসেছি। নিষেধাজ্ঞার তিন মাস পাশ বন্ধ থাকায় আমার পরিবারের উপরে আর্থিক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছি। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির সংসার চালাতে খুব কষ্টে আছি।

দাতিনাখালী গ্রামের আকবর কয়াল বলেন, সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে আমি বেকার হয়ে পড়েছি। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। বাইরে কাজ করতে অভ্যস্ত নই। সুন্দরবনের ওপর আমাদের জীবিকা নির্বাহ করে চলতে হয়। সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ হওয়ায় আমরা পরিবার কষ্টে আছি।

গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামের রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন জেলে ও বাওয়ালি জানান, আমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ থেকে শুরু করে আমরা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। মাছ, কাঁকড়া শিকার ও কাঠ, গোলপাতা সংগ্রহ করে সংসার নির্বাহ করি।

এসব জেলেরা বলেন, পাশ পারমিট বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। সরকারি সুযোগ-সুবিধাও যথাযথ পাচ্ছি না। আমাদের দাবি প্রতিটি পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হোক।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, জুনের ১ তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিন সুন্দরবন রেস্ট (বিশ্রাম)ও জোন ঘোষণা করায় সকল ধরণের বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ, পাশ পারমিট বন্ধ থাকবে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলেদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে সরকারি দপ্তরে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার তুষার কুমার মজুমদার বলেন, শ্যামনগর উপজেলায় জেলেদের নামের তালিকা আছে ২৩ হাজার। এর মধ্যে ৭৯৫ জন ৮৬ কেজি করে চাল পাবে। প্রথম কোটায় ৭৯৫ জন জেলে ৫৬ কেজি করে চাল পাবে।

নতুন ৮৩২৪ জন জেলের নামের তালিকাভুক্ত করেছি তাদের প্রত্যেককে ৩০ কেজি চাল দিতে এই তালিকা করা হয়েছে। এলাকার ২৩ হাজার জেলে-বাওয়ালি কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছেন। সাগরে ৬৫ দিন মৎস্য আহরণ বন্ধ।

দরিদ্র জেলেরা কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করেন, ২৩ হাজার জেলে-বাওয়ালি মাছ, কাঁকড়া আহরণ করে থাকি। ২৩ হাজার জেলে পরিবার সরকারি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা রাতে পায় সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ