শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কাভার্ডভ্যান কেড়ে নিলো ৫ প্রাণ

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি
যশোর সাতক্ষীরা সড়কের মনিরামপুরের বেগারিতলায় কাভার্ডভ্যান কেড়ে নিলো পিতা পুত্রসহ ৫ জনের প্রাণ। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।। নিহতরা হলেন মণিরামপুর উপজেলার টুনিয়াঘরা গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৫৫), তার ছেলে তাওসীন (৭), জয়পুর গ্রামের আব্দুল মমিনের ছেলে জিয়ারুল (৩৫), টুনিয়াঘরা গ্রামের বাবুর ছেলে তৌহিদুর রহমান (৩৫) এবং মফিজ মীরের ছেলে মীর সামসুল (৫০)।
এই ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্বজন হারাদের শান্তনা দেন।
পুলিশ ও প্রত্যদর্শীরা বলেন, যশোর থেকে সাতীরাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় কাভার্ডভ্যানটি রাস্তার পাশে হোটেল, চায়ের দোকানসহ অন্তত ১০টি দোকানে ধাক্কা দেয়। এতে চায়ের দোকান ও হোটেলে নাস্তা করতে আসা এবং পথচারী মিলে পাঁচজন মারা যান। প্রত্যদর্শীরা আরও জানান, ড্রাইভার ঘুমে অচেতন অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় কাভার্ডভ্যানটি রাস্তার পাশে হোটেল, চায়ের দোকানসহ অন্তত ১০টি দোকানে ধাক্কা দেয়। দোকানগুলো ভেঙ্গে চুড়মার করে দিয়েছে ঘাতক কাভার্ড ভ্যান।
মণিরামপুর প্রতিনিধি জানান, ঘটনার পর ুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ আড়াই ঘণ্টা পর বেলা ১০টার দিকে ব্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এদিকে ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যান ফেলে পালিয়ে গেছেন চালক ও চালকের সহকারী।
তিগ্রস্ত হোটেল মালিক আবু তালেবসহ স্থানীয়রা বলেন, হাবিবুরের বাড়ি বাজারের পেছনে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে রাস্তায় ওঠেন হাবিবুর। কাভার্ড ভ্যানটি এসে প্রথমে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। এরপর কাভার্ড ভ্যানটি রাস্তার পাশের কয়েকটি দোকান ভেঙে নুরুল আমিনের চা দোকানে বসে থাকা লোকজনকে চাপা দিয়ে হোটেলে এসে ধাক্কা দিয়ে আটকে যায়। এরপর সবাই দৌড়ে এসে কাভার্ড ভ্যানের নিচ থেকে সামছুর, তৌহিদুল ও জিয়াউরের মরদেহ টেনে বের করে।
নজরুল ইসলাম নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মনিরামপুর সাতীরা সড়ক প্রশস্ত হওয়ার পরে এই সড়কের গাড়িগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই এই সড়কের কোনো না কেন স্থানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছেই। তাই তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের টহল জোরদার করার অনুরোধ করেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ৪ জনের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এক শিশুর মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ড্রাইভার ও হেলপার পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।
যশোর পুলিশের মুখপত্র জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপম কুমার সরকার জানান, সকালে একটি কাভার্ডভ্যান যার (রেজিঃ ঢাকা মেট্রো-ন-২০-১৭৫১) দ্রুত গতিতে জনৈক তালেবের খাবারের দোকানের ঢুকে যায়। এসময় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই কাভার্ড ভ্যানের চালাক পালিয়ে যায়। সন্ধায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বেগারিতলায় গিয়ে দূঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্বজনহারাদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ