শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের আত্মসাতের অভিযোগ

আরো খবর

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে’র বিরুদ্ধে খামারিদের প্রশিক্ষণের নামে প্রাণিসম্পদ ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী খামারিদের কম টাকার নিন্মমানের উপকরণ সামগ্রী সরবরাহ করে মোটা অংকের টাকা তছরুপ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন খামরারিরা।

এদিকে, ডা. শংকর কুমার দে’র নিজ জেলা সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় নিজের বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলায় চাকরি করার সুবাদে তিনি এসব অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিজি ও ননপিজি চার ধাপে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে প্রথম দিন উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১৪টি পিজির মোট ৫৪৩ জন সদস্যের প্রশিক্ষণের জন্য দুপুরের খাবার নাস্তা, খাতা, কলম, ফোল্ডার বাবদ সরকারিভাবে খরচ ধরা হয়েছে ৪০০ টাকা হাওে মোট ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু এই খাতে খরচ করা হয়েছে দুপুরের বিরিয়ানি ১৪০ টাকা, পানি ১০ টাকা নাস্তা ১৭ টাকা তাছাড়া খাতা, কলম, ফেল্ডার বাবদ ২৫ টাকাসহ  মোট ১৯০-২০০ টাকা। এখান থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকার অধিক আত্মসাত করা হয়েছে। ননপিজিতে ও একাইভাবে লক্ষাধিক টাকার অধিক আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডে-১১ ও ডে-১২ তে মোট ২ লক্ষ টাকার বেশি তছরুপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসাথে পিজি ডে-১৩ (বর্তমান চলমান প্রশিক্ষণ) এখানেও সমপরিমান টাকা তছরুপ হবে বলে আশংকা করছেন অনেকেই।

এছাড়া ননপিজি অর্থাৎ বিজিনেস প্লান বর্তমানে চলমান রয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৬০০ জন সদস্যদের জন্য দুইদিনের প্রশিক্ষণে দুপুরের খাওয়া, সকালের নাস্তা, আনুষাঙ্গিক খরচের  জন্য সরকার বাজেট দিয়েছে ১৮ লক্ষ টাকা। এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন ওই অফিসের স্টাফ, স্টাফদের আত্মীয়স্বজন ও পছন্দেও খামারি ও একই পরিবার ২-৩ জন সদস্যকে হাজিরায় নাম তুলে টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে, প্রতিজন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য দুইদিনের প্রশিক্ষণে দুপুরের খাবার বাবদ এক হাজার, যাতায়াত খরচ বাবদ এক হাজার এবং প্রশিক্ষনকালে খাতা-কলম ও ব্যাগের জন্য আরও এক হাজার মোট তিন হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হলেও তাদের পিছনে দুইদিনের দুপুরের খাবার ব্যয় করা হচ্ছে ৪০০ টাকা, খাতা, কলম ও ব্যাগ ক্রয় ২১৫ টাকা এবং যাতয়াত খরচ দুইদিনে সম্মানীয় এক হাজার টাকা। মোট খরচ করা হচ্ছে এক হাজার ৬১৫ টাকা এবং ব্যয় দেখানো হচ্ছে তিন হাজার টাকা করে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৫৬০ জন্য সদস্য থাকলেও খাতাকলমে দেখানো হয়েছে ৬০০ জন পিজি ও ননপিজি সদস্য। সরকারি তহবিল থেকে ৬০০ জন সদস্য দেখিয়ে তিন হাজার টাকা করে মোট ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ নিয়ে বাকি টাকা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা আত্মসাত করছেন। এই খাতে ব্যাগ ও খাবার ক্রয়ে সব কিছু বাদ দিয়ে প্রায় আট লক্ষ টাকা মতো তছরুপ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন খামারিরা বলেন, প্রশিক্ষণের নাম বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা তিনি নয়ছয় করছেন। বিজনেস প্লানে দুইদিনের প্রশিক্ষণে ব্যাগ ও খাবারে বাজেট ছিল দুই হাজার টাকা। অথচ দুইদিনে খাবার দেয়া হয়েছে ৪০০ টাকার আর ব্যাগ দেয়া হয়েছে ২০০ টাকার। বাকি ১৪০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, এই প্রশক্ষণে উপজেলার প্রকৃত খামরারিদর অনেকেরই অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

নির্ভযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ডা. শংকর কুমার দে তার কর্মস্থল যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াড়া শাখা সোনালী ব্যাংক হতে তিনি ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি সেখানে থাকাকালীন দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি আট লক্ষ টাকা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অভিযোগে যোগদানের পর অর্থ আত্মসাত কওে সেই টাকা ি পরিশোধ করেছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে বলেন, প্রশিক্ষণরত খামারিদের ঠকানো হয়নি এবং তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সমূদয় টাকা খামারিদের মাঝে ব্যয় করা হয়েছে এবং তাদের পাওনা বুঝে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এস এম মাহবুবুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে’র বিরুদ্ধে খামারিদের প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাত সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমার কাছে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখন কিছু বলা সম্ভব ন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ