কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল অসাধু চক্র। পাম্প গুলোতে ‘সরবরাহ নেই’ বলে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, পাম্পের মালিকরা বাইরে খোলা বাজারে বোতলজাত ব্যবসায়িদের নিকট পেট্রোল,ডিজেল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।বিভিন্ন স্থানে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
কালীগঞ্জে রয়েছে ১১ টি তেল পাম্প গুলোতে গত ১৮ মার্চ থেকে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শেষে যারা মোটর সাইকেলে কর্মস্থলে ফিরছেন, তারা পড়েছেন মহাবিপদে। পাম্পে তেল না পেয়ে নিরুপায় হয়ে মানুষ রাস্তার পাশে ও গ্রাম এলাকার অবৈধ ব্যবসায়িদের ছোট দোকান গুলো থেকে দ্বিগুণ–তিনগুণ দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।ঢাকাগামী মোটর সাইকেল আরোহী গোলাম আজম, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাম্পের লোকরা বলছে তেল নেই।
কিন্তু পাম্প থেকে আনেকই বড় ড্রাম ভর্তি করে তাদের দোকানে নিয়ে বোতলে করে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল,ডিজেল,অকেটেন বিক্রি করছে। এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেকালীগহ্জের সকল তেল পাম্প ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে অধিক লাভের আশায় গভীর রাতে বেশি দামে তাদের নিকট তেল বিক্রি করছে। গ্রাম এলাকার অবৈধ ব্যবসায়িরা পাম্প তেথে তেল নিয়ে পাম্প তাদের দোকানে বোতল ভর্তি করে চড়া দামে বিক্রি করছে।পাম্প মালিকরা বরাবরের মতোই ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দিচ্ছেন। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, দেশে তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই।
অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছে।কালীগঞ্জে প্রতিদিন ১/২টি তেল পাম্পে তেল দেওয়া শুরু করলে কয়েক হাজারমোটর সাইকেল,বিভিন্ন যানবাহন সারিবদ্ধভাবে ৪/৫ ঘন্টা দাড়িয়ে থাকছে ১/২ লিটার তেলের জন্য।কিন্তু ঘন্টাখানিক তেল দেওয়ার পরে জানিয়ে দিচ্ছে মেশিন জাম্প করেছে এখন আর তেল দেওয়া যাবে না। ফলে তেল ক্রেতারা তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে আবার অনেকে ট্রাক,বাস, মটরসাইকেল তেলের অভাবে চালানো বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে অনেক যানবাহন তেল বেশি দামে ক্রয় করে যাত্রিদের নিকট থেকে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। যে কারনে পাম্পের তেল নিয়ে তেল বাজির কান্ড প্রতিদিন ঘটছে। এসব দেখার জন্য প্রশাসনের কোন নেক নজর নই।কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ টি তেল পাম্পে ঘন্টা খানিক তেল দেওয়া পরে মেশিনে কাজ করছে না মেশিন খারাপ এমন অজুহাত দেখিয়ে তেল দেওয়া বন্ধ করে পাম্পের দুই পাশে বাশ ও দড়ি বেথে দেওয়া হয় যাতে করে পাম্পে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের দাবি,অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হোক। পাম্প থেকে তেল সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হি অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলছেন কোন পাম্প মালিক তেল মজুত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।কিন্তু বাস্তবে কোন কাজে আসছে না প্রশাসন একে বারেই দায়সারা ভাব অবস্থায় রয়েছে।

