বিশেষ প্রতিনিধি: প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু কি মধু পেয়েছেন ঝিকরগাছায়। টানা ১৫ বছর একই উপজেলায় জেঁকে বসে আছেন তিনি। এ উপজেলায় যোগদানের পর প্রথম কর্ম দিবসে তিনি যে চেয়ারটিতে বসেছিলেন বয়সের ভারে সেই চেয়ার ৪ বার পরিবর্তন করা হলেও কর্মস্থল ছাড়েননি শ্যামল বসু। তাঁর এই যাদুর কাঠি নিয়ে উপজেলার গোটা অফিসারদের মধ্যে সৃস্টি হয়েছে নানা কৌতুহল। তার গোত্রীয় প্রকৌশলীরাও বিষয়টি দেখছেন ঈর্ষানীয় চোখে। অনেকে তাকে ক্ষমতাবান প্রকৌশলী হিসেবে বেশ সমীহ করে চলেন।
ঝিকরগাছায় ২০০৯ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন শ্যামল কুমার বসু। এরই মধ্যে প্রায় ১৫ বছর পার হতে চলেছে। তিনি একই কর্মস্থলে থেকে ৩ জন সংসদ সদস্যের মেয়াদকাল পার করতে চলেছেন।
চাকরি প্রবিধান অনুযায়ী সাধারণত সরকারি কোন কর্মচারিকে ৩ বছর বা বিশেষ ক্ষেত্রে ৪ বছর একই কর্মস্থলে রাখা হয়। কিন্ত অজ্ঞাত কারণে শ্যামল বসুর ক্ষেত্রে এই নিয়মটি প্রযোজ্য হয়নি। আর এতেই তিনি দাপুটে প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। শুধু দাপুটে নয় এই সুযোগ নিয়ে ব্যাপক বিত্তবৈভাবের মালিক বনে গেছেন। অফিসে তার গরহাজিরসহ গমনাগমনে রয়েছে চরম অনিয়মের অভিযোগ। এডিবিসহ সরকারের বিভিন্ন উনয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নয় ছয়েরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শ্যামল বসুর বর্মমান কর্মস্থলের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ১৯ ৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২১ জন প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মধ্যে প্রকৌশলী ওয়ালিউল্লা ১৩.০৯,৮৩ থেকে০১, ০৪. ৮৪ পর্যন্ত, জিএম নুরুল ইসলাম ০১,০৫,৮৪ থেকে ১২.০৮.৮৪ পর্যন্ত, প্রকৌশলী সুকুমার ভৌমিক ১৩.০৮.৮৪ থেকে ২৩,০৬,৮৫ পর্যন্ত,জিএম নুরুল ইসলাম ২৪,০৬,৮৫ থেকে ৩১.০৮.৮৫ পর্যন্ত, প্রকৌশলী মোঃ মোশারফ হোসন ০১,০৯,৮৫ থেকে ০৩.১১. ৮৭ পর্যন্ত, প্রকৌশলী শহিদুর রহমান প্রমানিক ০৪,১১.৮৭ থেকে ২৬,১০.৮৮ পর্যন্ত, প্রকৌশলী তোষার কান্তি সাহা ২৭,১০. ৮৮ থেকে ০৮,১২.৮৮ পর্যন্ত, প্রকৌশলী শহিদুর রহমান প্রমানিক ০৯.১২.৮৮ থেকে ০২.০৮.৯২ পর্যন্ত, প্রকৌশলী তানজিদ সরোয়ার ১৩,০৮,৯২ থেকে ০৩,০১,৯৭ পর্যন্ত, মোঃ রোকন উদ্দিন ১৪,০১.৯৭ থেকে ০১. ০৪. ৯৯ পর্যন্ত, প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম ০২,০৪,৯৯ থেকে ১৯,০৪.৯৯ পর্যন্ত, প্রকৌশলী শুভাষ কুমার সাহা ২০,০৪,৯৯ থেকে ০৫,০৮,২০০২ পর্যন্ত, মোঃ মহসীন হোসেন ০৬,০৮,২০০২ থেকে ২৯,১০,২০০৪ পর্যন্ত, মোঃ আব্দুল মাজেদ ৩০.১০. ২০০৪ থেকে ০৭.১০.২০০৭ পর্যন্ত. প্রকৌশলী শুভাষ কুমার সাহা ০৮.১০.২০০৭ থেকে ০৯.১০. ২০০৭ থেকে ০৯.১০.২০০৭ পর্যন্ত, মোঃ শফিকুর রহমান ০৯,১০.২০০৭ থেকে ৩০,১২,২০০৭ পর্যন্ত, এম এম আবুল কাসেম ৩০,১২. ২০০৭ থেকে ২২,০১.২০০৮ পর্যন্ত, প্রকৌশলী শুভাষ কুমার সাহ ২৩,০১.২০০৮ থেকে ২৩,০১,২০০৮ পর্যন্ত, প্রণব কুমার সরকার ২৩,০১, ২০০৮ থেকে ০৫.০৭.২০০৮ পর্যন্ত. প্রকৌশলী এএস এম তরিকুল হাসান খান ১৫.০৭.২০০৮ থেকে ০১.০২.২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর পর শ্যামল কুমার বসু ১১,০২,২০০৯ সালে বসেন ওই চেয়ারে। পরিসংখানে দেখা যায়, পুর্বের ২০ জন প্রকৌশলী গড় এক বছরের কিছু বেশী সময় দায়িত্ব পালনের পর বদলি করা হয়েছে। কিন্তু শ্যামল বসুর ক্ষেত্রে এই নিয়ম কেন প্রযোজ্য হয়নি তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখা পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে যশোরের এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, বদলির বিষয়টি নিয়ন্ত্রন করেন ঢাকা থেকে প্রধান প্রকৌশলী। এ ক্ষেত্রে শ্যামল কুমার বসু টানা ১৫ বছর একই কর্মস্থলে কি ভাবে রয়েছেন সেটি তার জানা নেই।

