বিশেষ প্রতিনিধি : যশোর কুইন্স হাসপাতালে এক রোগী এবং তার দুই মেয়ের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণে বিব্রতকর অবস্থার মুখে পড়েছেন ডাক্তারসহ কর্তব্যরত সেবিকারা। ওই রোগী অপারেশনের পর একদিন হাসপাতালের কেবিনে থাকার কথা বলে টানা ৫৩ দিন জেঁকে বসে নানা রকম অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এব্যাপারে সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দপ্তরে নালিশ জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সিভিল সার্জন অফিসের একটি প্রতিনিধি দল কুইন্স হাসপাতাল পরিদর্শন গিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ খবর করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মাহমুদা খাতুন নামে ৫৩ বছর বয়সি ওই রোগী চিকিৎসা নেয়ার জন্য ১৬ মে কুইন্স হাসপাতালে অধ্যাপক সৈয়েদ মাহবুবুল আলমের চেম্বারে যান। তিনি তার জটিলতার মাত্রা নিরুপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরীক্ষা করাতে বলেন। পরীক্ষার রিপোর্ট সন্তোষজনক আসার পর ১৭ মে তার সফল অস্ত্রোপচার হয় এবং ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। কিছুক্ষণ পর রোগীর দুই মেয়ে তাদের ৫ তলা বাসায় উঠানামায় সমস্যার কথা বলে এক দিনের জন্য হাসাপালের কেবিনে রাখার অনুরোধ করেন। পরে তারা কেবিন ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকেন। একদিন পর শুরু হয় তাদের নানা টালবাহানা। এক পর্যায় রোগী ও তার দুই মেয়ে দাবি করেন অপরেশনের কারণে তাদের সমস্যা হচ্ছে বিধায় তারা এখন কেবিন ছাড়বেন না। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাত সদস্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ বোড গঠন করে রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সমন্বিত মতামত গ্রহণ করেন।
বোর্ডের পর্যালোচনায় অপারেশন সংক্রান্ত বা সংশ্লিষ্ট কোন জটিলতা পরিলক্ষিত হয়নি। উল্লেখ্য ওই রোগী অপারেশনের পুর্বে লিভার ডিজিজ ও শ^াসজনিত রোগে ভুগছিলেন। এ বিষয়ে তিনি ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফলোআপে ছিলেন। এদিকে রোগীর সেলাই কাটার পর সার্জিক্যাল দিক থেকে সুস্থ ঘোষনা করা হয়। এরপর মেডিকেল বোর্ড রোগীকে তার অন্য রোগের জন্য ঢাকাস্থ তাদের বিশেষজ্ঞকে দেখাতে বলেন। কিন্তু তারা বাসা বা ঢাকায় না গিয়ে রোগীর জ¦র আসছে বলে দাবি করে।
এর প্রেক্ষিতে তাকে রক্ত পরীক্ষা করানোর কথা বলা হলেও তারা তা না করে অসংলগ্ন কথা বার্তা বলতে শুরু করেন। তারা হাসপাতালের চিকিৎসা প্রথা মানছেন না এবং মেডিকেল অফিসার ও সেবিকাদের তাদের রুমে যেতে দিচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ করে তারা অন্তরীন থাকছেন। ইচ্ছামাফিক অক্্িরজেন নিচ্ছেন এবং বন্ধ করছেন। তারা ব্যবস্থাপত্র না মেনে খেয়ালখুশীমত ওষুধ খাচ্ছেন এবং ইচ্ছামত চলাফেরা করছেন। মাঝে মাঝে তার দুই মেয়েকে গভীর রাতে হাসপাতালের কেবিনে ঢুকতে দেখা যায়।
লিভার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্যারাসিটামল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা সত্ত্বেও নিজেদের ইচ্ছামত তা গ্রহণ করছেন। এতে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এদিকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর গতকাল ডেপুটি সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কুইন্স হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছেন।
এব্যাপারে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর কবু বলেন তারা কি কারণে এতোদিন হাসপাতলে থেকে সময় ক্ষেপন করছেন তা পরিস্কার নয়। তাদের সন্দেহজনক চলাফেরায় আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ২২ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি।

