কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি:
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা আর জনবলের ঘাটতি থাকলেও থেমে নেই কেশবপুর উপজেলার জনসেবা। বরং একজন দক্ষ কর্মকর্তার হাত ধরে তা পেয়েছে নতুন গতি। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। বর্তমানে তিনি কেবল ইউএনও হিসেবেই নয়, বরং উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক এবং এসিল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সমান তালে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এবং তিনি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপজেলা বিভিন্ন জায়গায় চালাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কেউ আসছেন ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে, কেউবা পৌরসভার নাগরিক সুবিধার খোঁজে। কোনো বিরক্তি ছাড়াই হাসিমুখে সকলের কথা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছেন রোকসানা খাতুন।
সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তার এই পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলার ত্রিমোহিনী এলাকা থেকে আসা আব্দুল বারি বলেন আমরা ভেবেছিলাম প্রশাসক পরিবর্তনের পর হয়তো কাজ আটকে থাকবে। কিন্তু ইউএনও স্যার যেভাবে একাই সব সামলাচ্ছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ। বিশেষ করে এসিল্যান্ডের বাড়তি দায়িত্ব পালন করায় আমাদের জমির কাজগুলো এখন দ্রুত হচ্ছে। উনার ধৈর্য দেখে অবাক হতে হয়।
পৌরসভার এক বাসিন্দা বলেন পৌর প্রশাসক হিসেবে তিনি যেভাবে শহরের ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারকি করছেন, তাতে মনেই হচ্ছে না কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও তিনি দিনরাত আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন জনসেবাই আমার মূল লক্ষ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্পিত দায়িত্বগুলো পালন করা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমি একে সুযোগ হিসেবে দেখছি। প্রতিদিন শত শত মানুষ আশায় বুক বেঁধে আমার দপ্তরে আসেন। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি মানুষ যেন হাসিমুখে সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। কাজ অনেক বেশি হলেও সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমি ক্লান্তি বোধ করি না। কেশবপুর উপজেলার প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে আমি এবং আমার টিম বদ্ধপরিকর।
রেকসোনা খাতুনের এই কর্মস্পৃহা এবং জনবান্ধব মানসিকতা আজ কেশবপুরের মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

