কেশবপুর প্রতিনিধি:মাথার ওপর ভাঙা টিন, আর তার ওপর তালি দেওয়া কয়েক টুকরো পলিথিন। একটু বাতাস বইলেই ঘর কাঁপে, আর বৃষ্টি নামলে ঘরের ভেতর শুরু হয় অঝোর ধারা। এটি কোনো গল্পের দৃশ্য নয়, যশোরের কেশবপুর উপজেলার মজিতপুর ইউনিয়নের বায়সা গ্রামের অসহায় জালাল উদ্দীনের নিষ্ঠুর বাস্তব। গত দুই বছর ধরে এভাবেই এক ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
একাকী জীবনের অন্তহীন লড়াই সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জালাল উদ্দীনের জীবনে ট্র্যাজেডির শেষ নেই। প্রথম স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন সংসারের হাল ধরতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায়, যখন দ্বিতীয় স্ত্রী ঘরের সবটুকু সঞ্চয় নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান। এখন রান্না থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রতিটি কাজ একাই করতে হয় এই নিঃস্ব মানুষটিকে।
বিচ্ছিন্ন পরিবার ও মানসিক যন্ত্রণা জালালের একমাত্র ১৩ বছর বয়সী মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন। অভাবের তাড়নায় নিজের কাছে রেখে মেয়ের চিকিৎসা বা দেখভাল করার সামর্থ্য হারিয়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে কলিজার টুকরো সন্তানকে পাঠাতে হয়েছে অন্যের আশ্রয়ে। নিজের ঘর বলতে যা আছে, তা এখন বসবাসের অযোগ্য। স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস না থাকায় ঘরটি মেরামতের স্বপ্ন দেখাও তার জন্য বিলাসিতা।
একটা নিরাপদ ঘর থাকলে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে ভয়ে বুক কাঁপে, এই বুঝি শেষ আশ্রয়টুকুও উড়ে গেল। কেউ যদি একটু পাশে দাঁড়াতো
মানবিক সাহায্যের আকুতি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জালাল উদ্দীনের এই দুরবস্থা দীর্ঘদিনের। সরকারি কোনো সহায়তা বা সমাজের বিত্তবানদের সামান্য সহানুভূতিই পারে তার এই জীর্ণ ঘরে এক চিলতে স্বস্তি ফেরাতে। একটি নিরাপদ চাল আর দুই বেলা অন্নের নিশ্চয়তা পেলে জালাল হয়তো বাকি জীবনটা অন্তত নির্ভয়ে কাটাতে পারবেন।

