শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপুরে টেন্ডার ছাড়াই গাছ কর্তনের অভিযোগ

আরো খবর

সিদ্দিকুর রহমান  কেশবপুর (যশোর):
যশোরের কেশবপুরে বাউশলা ও মজিদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা অর্চনার একটি বটগাছ টেন্ডার ছাড়াই কর্তন করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাউশলা ও মজিদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিছনে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পূজা অর্চনার বটগাছ ছিল। হিন্দু ধর্মালম্বরা একটিকে মানিক গাছ বলে এর নিচে বিভিন্ন সময়ে পূজা অর্চনা করতো। দীর্ঘদিন আগে ওই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ে। ফলে সরকার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণে ১ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়।
গত ৮ ডিসেম্বর প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন নবনির্মিত ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরিফ নেওয়াজ, উপজেলা প্রকৌশলী নজিবুল হক প্রমুখ।
এদিকে, গত ১০ ডিসেম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষে ভবন নির্মাণের কথা বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা অর্চনার বটগাছটি কাটা শুরু করে। প্রতাপপুর ওয়ার্ড মেম্বার আজিবার রহমান বলেন, গাছ কাটায় আমার কোনো হাত নেই। শুনেছি উপরিমহলের নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যান বটগাছটি কাটছেন।
মজিদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দাতা গাজী গোলাম সরোয়ার বলেন, ১৯৭৯ সালে আমার পিতা মাদার গাজী ১৪ শতক জমির মধ্যে ১৩ শতক জমি ভূমি অফিসের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। ওই জমিতে আমাদের রাইস মিল ছিল। অবশিষ্ট জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করা হতো। কিন্তু ভূমি অফিস পেছনের বটগাছসহ আমাদের ১ শতক জমিও জবর দখল করে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপরে মজিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর পলাশ বলেন, এসিল্যান্ড স্যার গাছটি আমাকে কেটে রেখে দিতে বলেছে। যে কারণে কাটা হচ্ছে।
বাউশলা ও মজিদপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভবন নির্মাণের স্বার্থে গাছটি কাটা হচ্ছে। তবে বিক্রির জন্য নয়। তাছাড়া জমি দাতা গাজী গোলাম সরোয়ার যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। তারা দীর্ঘদিন খজনা না দেয়ায় ওই ১ শতক জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। তারা যদি মামলা করে কোনো কালে জমি ফিরে পায় তখন মালিকা দাবি করতে পারবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ