অলিয়ার রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধিঃ
‘নৌকা যে কেন পরাজিত হচ্ছে, সেটা এখন বুঝতে পারছি। আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও যোগ্য নেতা মনোনয়ন না পাওয়ায় এ উপজেলা থেকে নৌকা প্রতীকের অনেক প্রার্থী পরাজিত হতে পারে।’ ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে কেশবপুরে মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক নেতার সমর্থকরা এভাবেই তাদের কথা ব্যক্তয় করেছেন। এমনকি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন না পেয়ে শনিবার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ও কথাও জানা গেছে।
গত শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করলে কেশবপুরের ১১ ইউপির ৯ জন নতুন মুখ নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবী না থাকা প্রার্থীও রয়েছেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন গেলো ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া ৫ চেয়ারম্যান। এছাড়া ফের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন আওয়ামী লীগের ৪ নেতা। এরপর থেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে থাকেন।
উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক ইবাদুল ইসলাম বলেন, যাদের এলাকায় জনপ্রিয়তা নেই এবং দলীয় কোন পদে নেই এমন অনেককেই দেওয়া হয়েছে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন। ত্যাগী নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের যোগ্য অনেক নেতাই মনোনয়ন না পাওয়ায় এ উপজেলা থেকে নৌকা প্রতীকের অনেক প্রার্থী পরাজিত হতে পারে। নৌকা যে কেন পরাজিত হচ্ছে, সেটা এখন বুঝতে পারছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, এ উপজেলায় এবার নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি হবে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ২ থেকে ৩ জন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হতে পারে।
উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামছুদ্দীন দফাদার বলেন, এবারের নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু দল থেকে আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে এ ইউনিয়ন থেকে ৪ বারের বিদ্রোহী প্রার্থী মশিয়ার রহমানের বোন শামছুন্নাহার বেগমকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। যার এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং কর্মী সমর্থক নেই। ক্ষোভ ও হতাশা থেকে নিজেকে বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছি।
উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, দলের কোন পদ-পদবীতে নেই এমন ব্যক্তিকে এ ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তবে কেশবপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ। কেশবপুর সদর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান শিমুল বলেন, এ ইউনিয়ন দীর্ঘবছর বিএনপির দখলে। নৌকা প্রতীক নিয়ে এখনও কোন প্রার্থী এ ইউনিয়ন থেকে বিজয়ী হতে পারেননি। আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে এবার এ ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গৌতম রায়কে বিজয়ী করতে কাজ করে যাবো।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন বলেন, দল থেকে যাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদেরকে বিজয়ী করতে উপজেলা আওয়ামী লীগ কাজ করবেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার ১ নম্বর ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক শেখ অহিদুজ্জামান, ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা অলিয়ার রহমান, ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মনোজ কুমার তরফদার, ৪ নম্বর বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা সামছুর রহমান, ৫ নম্বর মঙ্গলকোট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের বিশ্বাস, ৬ নম্বর কেশবপুর সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়, ৭ নম্বর পাঁজিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দীন, ৮ নম্বর সুফলাকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মনি, ৯ নম্বর গৌরীঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান, ১০ নম্বর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামছুন্নাহার বেগম এবং ১১ নম্বর হাসানপুরে উপজেলা যুবলীগের সদস্য তৌহিদুজ্জামান।
এদিকে বর্তমান ত্রিমোহিনী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, সাগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত, পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল, সুফলাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন দফাদার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন।
পাশাপাশি গত ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম সরোয়ার, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক বি এম ইব্রাহিম হোসেন, সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও হাসানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শাহিদুজ্জামান শাহীন এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১২ ডিসেম্বর ও প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৯ ডিসেম্বর। আর ভোটগ্রহণ হবে ৫ জানুয়ারি। #
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
আ’লীগের সম্পত্তি হাইব্রিডদের কাছে সুরক্ষিত নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
আ’লীগের সম্পত্তি হাইব্রিডদের কাছে সুরক্ষিত নয় , আওয়ামী লীগের সম্পত্তি হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে সুরক্ষিত নয়। যার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ছবি ও আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর হয়। ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপন ও প্রভাষক নজরুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর ছবি ও আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর করে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন। তিনি শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় মঞ্জুর রশিদ স্বপনসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিল্লাল হোসেন। একই সাথে তিনি বলেন, থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ দিলেও তা রেকর্ড হয়নি। পরে তিনি কোর্টে মামলা করেছেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
মামলায় তিনি পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা ও বাকি এক লাখ ৭৫ হাজার টাকার সিমেন্ট নিয়ে যায় স্বপনের নেতাকর্মীরা। বিল্লাল হোসেন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ট বিচারের দাবি করেছেন।#
যশোর সদরে নৌকার বৈঠা হারালেন
প্রভাবশালী সাত চেয়ারম্যান
ই আর ইমন
যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ভোট হবে আগামী ৫ জানুয়ারি। পঞ্চম দফার এই ভোটে শুক্রবার দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এবার সাতটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বচনে জয়ী হওয়া প্রভাবশালী চেয়ারম্যানরা দলীয় মনোনয়ন পাননি।
দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন হৈবতপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, ইছালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির স্ত্রী খুশি, কাশিমপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিয়ার রহমান সাগর, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মুন্না, দেয়াড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিস ও আরবপুর ইউনিয়নে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম।
নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন হৈবতপুর ইউনিয়নে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সিদ্দিক, লেবুতলা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলীমুজ্জামান মিলন, ইছালী ইউনিয়নে ফেরদৌসী ইয়াসমিন, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজিয়া সুলতানা, উপশহর ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, কাশিমপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি দাউদ হোসেন দফাদার, দেয়াড়া ইউনিয়নে প্রফেসর লিয়াকত আলী, আরবপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মীর আরশাদ আলী রহমান, চাঁচড়া ইউনিয়নে জেলা শ্রমিকলীগের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা পান্নু, ফতেপুর ইউনিয়নে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহরাব হোসেন, রামনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নাজনীন নাহার, কচুয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ধাবক, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের আলী ও বসুন্দিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল।
পঞ্চম দফার এই নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদানের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর, বাছাই ১২ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ১৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ ২০ ডিসেম্বর। ভোট ৫ জানুয়ারি।#

