কেশবপুর থেকে রূহুল কুদ্দুস: কেশবপুরের চাষিদের মধ্যে করলা(উস্তে) চাষের আগ্রহ বাড়াই অনেকেই এই চাষে ঝুকেছেন। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে অনেক চাষি তাদের বিভিন্ন রকম সবজীর মধ্যে করলার প্রিতি ঝোক যেন একটু বেশি। কারন হিসাবে জানালেন, সারা বছর বাজারে করলার চাহিদা রয়েছে। বাজার দর প্রায় একই রকম থাকে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল কেশবপুর পৌরশহরের মধ্যে সাবদিয়া মাঠে বর্গা চাষি হাফেজ ফিরোজ হোসেন করলা গাছের ডগা গুলো মাচার সাথে সুতা দিয়ে বেধে দিচ্ছিলেন। কাজের ফাকে কথা হচ্ছিল।তিনি জানান,যে ক্ষেত টিতে কাজ করছেন এটা করলা (দূর্বার) জাতের বীজ রোপন করা হয়েছিল। সাধারনত বীজ রোপনের ৫০দিনের মধ্যে করলার ফল আশা শুরু
করে এবং ৬০ দিন পর থেকে বাজার জাত করা যায়। বর্তমান করলার বাজার দর চলছে পাইকেড়ি ৬০/৬৫টাকা প্রতি কেজি। ৩ মাস একটানা ফলন থাকে সাধারনত। প্রতি শতকে গড় ৬০কেজি করে ফলন হয়ে থাকে।
প্রতি শতকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব মিলে খরচ হয় ১৫ শ টাকা মত। সে হিসাবে প্রতি শতকে ২২শ থেকে ২৫ শত টাকা লাভ থাকে।মালচিং পদ্ধতিতে বীজ রোপনের পর থেকে গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে ( এ) প্যার্টান এর মাচা তৈরী করে চারা গাছ গুলো মাচার সাথে দড়ি দিয়ে বেধে দিতে হয়। মালচিং পদ্ধতিতে চাষ আবাদের ফলে কৃষকের মোট খরচ অর্ধেকে নেমে আসে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও কম লাগে, সাথে জমির আদ্রতা অক্ষুন্ন থাকায় সেচ খরচ ও কমে আসে।
সেই সাথে কীটনাশক ব্যবহার শুন্য তে নামিয়ে আনতে হরমোন ফাঁদ স্থাপন করে সবজি কে বিষমুক্ত রাখার কারণে বাজারে চাহিদাটা একটু বেশি থাকে।
জমির মালিক হাফেজ ফিরোজ হোসেন জানান, কৃষি বিভাগ আজ পর্যন্ত তার সবজী ক্ষেত
একদিনও পরিদর্শন করেনি। তিনি স্থানীয় অভিজ্ঞ চাষীদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন বালাইনাশ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত চাষাবাদ করে আসছেন। সরকারের কৃষি বিভাগের নজরদারি থাকলে, তখন কৃষক সহযোগিতা পেলে ফলন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তুনু মনে করেন।
কেশবপুর কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ৩৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

