রুহুল কুদ্দুস/এনামুল হাসান,কেশবপুর( যশোর): কেশবপুর যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর এখন রঙিন ফুলের সমারোহে এক মোহনীয় রূপ ধারণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত উদ্যোগে পুরো প্রশাসনিক এলাকাটি এখন নজরকাড়া সৌন্দর্যের আধার। পরিষদের সবুজ চত্বরে ফুটে থাকা হরেক রকমের ফুল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রতিটি কোণ এখন যেন একেকটি শিল্পকর্ম। বিশেষ করে সবুজ ঘাসের বুকে গাঁদা ফুল দিয়ে তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন নকশা সবার নজর কাড়ছে। শুধু গাঁদা নয়, বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ করায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এক স্নিগ্ধ আমেজ। নিয়মিত পরিচর্যা ও সুষম রক্ষণাবেক্ষণের ফলে ফুলগুলোর সৌন্দর্য পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং তৈরি করেছে একটি পরিবেশবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক কর্মপরিবেশ। পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন কাজে এখানে আসেন। তাদের অনেকের মতে, ফুলের এই বাগান কাজের ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
উপজেলা পরিষদে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, “আগে প্রশাসনিক এলাকাগুলো কেবল ইটের দেয়াল আর ফাইলের স্তূপ মনে হতো। কিন্তু কেশবপুরের এই ফুলের বাগান এলাকাটির চেহারা বদলে দিয়েছে। এমন নান্দনিক পরিবেশ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দপ্তরে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই বাগান সাজানো হয়েছে। নিয়মিত মালিদের তদারকিতে এই সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
ফুলের এই স্নিগ্ধতা কেশবপুর উপজেলা পরিষদকে যশোরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন প্রশাসনিক চত্বর হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের কাজের গতি বাড়ায় এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। আমরা চেয়েছি কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরকে কেবল একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং একটি পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে।
আমাদের এই ছোট উদ্যোগে সবুজ ঘাসের বুকে গাঁদা ফুলসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফুলের যে নকশা করা হয়েছে, তা পরিষদের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। এখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন বিষণ্নতা ভুলে এক চিলতে প্রশান্তি পান, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
আমরা নিয়মিতভাবে এই বাগানের পরিচর্যা করছি এবং ভবিষ্যতে এই সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সুন্দর কর্মপরিবেশ সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতা—উভয় পক্ষকেই ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

