বিশেষ প্রতিনিধি: সকল প্রস্ততি সম্পন্ন। আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যশোরের কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। সকাল ৮ টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং তা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। দুই উপজেলোয় ভোট হবে আধুনিক পদ্ধতি ইভিএমে। প্রথমবার ইভিএমে ভোট নেয়ায় বাড়তি আগহ তৈরী হয়েছে ভোটারদের মধ্যে। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। প্রার্থীরা সকলেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি হলেও কার ভাগ্যে ছিঁকে ছিড়বে না নিয়ে চলছে চুলচিরা বিশ্লেষণ।
বিভিন্ন সূত্র এবং মাঠ জরিপে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে কেশবপুরে চতুর্মুখী এবং মণিরামপুরে ফারুক লাভলুর মধ্যে তুমুল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এউপজেলায় লাভলুর পক্ষে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর কর্মী সমর্থকদের জোরাল সমর্থন রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে হরে যাওয়ায় তারা এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। তারা মনে করছেন উপজেলা হাতছাড়া হলে তাদের আর আস্থার জায়গা থাকবে না। অপর দিকে জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রভাষক ফরুক হোসেনর পক্ষে নিরন্তর কাজ করছেন বর্তমান এমপির কর্মী সমর্থকরা। নতুনমুখ হিসেবে বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন তিনি।
কেশবপুরে বর্তমান এবং সাবেক এমপির পছন্দের প্রার্থী থাকলেও তা চর্তুমূখী রুপ নিয়েছে। তবে এক ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান এমপির কর্মী সমর্থকরা। তারা দল বেধে শালিক মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। একারণে প্রার্থী নাসিমা সাদেক প্রচারণায় এগিয়ে না থাকলেও ভোটে এগিয়ে আছেন বলে অনেকে মনে করছেন। এউপজেলায় তিন প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। প্রচারপ্রচারণায় তাঁরা তিনজনই সমানতালে লড়েছেন। এরমধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল্লাহ-নূর-আল আহসান বাচ্চু (দোয়াত-কলম) তার নিজ এলাকায় বেশী ভোটে এগিয়ে থাকবেন বলে তার সমর্থকরা দাবি করেছেন, একই দাবি করেছেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্নার সমর্থকরা। তিনি লড়ছেন হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে। তিনি সাগরদাড়ী সহ আশে পাশের ইউনিয়নে অনেক ভোটে এগিয়ে থাকবেন বলে দাবি করেছেন তার কর্মীরা। তবে পিছিয়ে নেই উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান। তার প্রতিক ঘোড়া। পৌরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে তিনি এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তবে পৌর মেয়রসহ তার ঘরনার প্রভাবশালীরা যদি শেষ রাতের খেলা খেলে দেয় তাহলে ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।সব মিলে এউপজেলায় চতুর্মূখী প্রতিদ্বন্ধিতা হবে মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে জয় পরাজয় হবে সামান্য ভোটের ব্যবধানে।
এ দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিদ্বতা করছেন ২৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩জন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৬জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া কেশবপুর উপজেলার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ৬জন। এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরাঞ্জাম পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। দুই উপজেলায় ২৬০ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৬০৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এসব সরাঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্রে পৌছে গেছেন।
এর আগে যশোর পুলিশ লাইনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ করার সকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে ১ হাজার ৮শ’ ৬৮জন পুলিশ সদস্য ও ৩হাজার ৬শ’ আনসার, ৪০ জন র্যাব সদস্য এবং ৪ প্লাাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সকলকে দায়িত্ব¡ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কোন অপশক্তি ঝামেলা করতে চাইলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

