রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপুর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কে এই শফিকুল

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি:কেশবপুর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কে এই শফিকুল। কখনও সাদা পাঞ্জাবীর ওপর মুজিবকোর্ট,কখনও রংচটা গেঞ্জি, কখনও মোটরসাইকেল,কখনও প্রাইভেটকার চড়ে উপজেলার গ্রামা থেকে প্রামান্তর চষে বেড়াচ্ছে এই যুবক। কখনও ছাত্রলীগ কখনও যুবলীগ আবার কখনও বড়ভাইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।সম্প্রতি ভালুকঘর ফাযিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বানিজ্যের ঘটনায় তাকে দেখা গেছে খল নায়কের চরিত্রে।

সেখানকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান জানান, ভালুকঘর মাদ্রসায় নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চিত্ত রঞ্জন মন্ডল নিয়োগ স্থগীত করে নোটিশ জারি করেন। ৭ মার্চ মাদ্রসার বোর্ডে ওই নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। ওইদিন দুপুরে শফিকুল ইসলাম মাদ্রসায় গিয়ে ওই নোটিশ ছিড়ে ফেলেন এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, বড়ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে। আপনারা নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যান। কেউ বাধা দেবে না।

পরদিন শফিকুল ইসলামকে যশোর কালেকটরেট চত্বরে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ওই দিন গভর্ণিং বডির দাতা ও অভিভাবক সদস্যদের তীব্র আপত্তির মুখে এডিসি শিক্ষার কার্যালয়ে ভালুকঘর মাদ্রসার প্রশ্নবিদ্য নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়।

মনিরুজ্জামান জানান ৭ মার্চ নিয়োগ পরীক্ষার দিন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এলাকার অনেক দাগি লোকজন ভাড়া করেন। যাদেরকে মাইক্রোবাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শফিকুল ইসলাম তাদের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন।

এব্যাপারে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক সানা জানান, শফিকুলকে নিয়ে গোটা উপজেলায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সে ঈগল মার্কার কর্মী সর্থকদের প্রশ্নের মুখে দাড় করিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে।

এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এসেছে তার মধ্যে রয়েছে সাতবাড়িয়ার গরুহাটের ইজারাদারের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, বারুইহাটি গ্রামের রুমান ব্রিকস থেকে চাঁদাবাজি, হাটবাজারের টেন্ডার বানিজ্য, ভালুকঘর বাজারে আব্দুল কাদের বিশ্বাস দোকান ঘর মেরামত করতে গেলে এসিল্যান্ডের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি। এছাড়া নিয়োগ, টেন্ডার, ডিলারি লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার নাম করে অর্থ বানিজ্য করে চলেছে।

ভালুকঘর গ্রামের দাউদ সরদার জানান, সম্প্রতি তার ছেলে বিবাহ করে বড়িতে আসলে  শফিকুল পুলিশের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলী হাসান জানান কেশবপুর উপজেলায় সম্প্রতি নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্যে শফিকুল ইসলামের  নাম শুনা যাচ্ছে। কোন সংগঠনে তার পদপদবি না থাকলেও সে নিজেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে উপজেলা ব্যাপী চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে। অনেকে জানতে চাচ্ছেন বহু অপকর্মের হোতা কে এই শফিকুল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় কেশবপুরের টিপু গং’র সাথে  শফিকুলের গভীর সখ্যতা রয়েছে। সে ভালুকঘর গ্রামের আজিবার সরদারের ছেলে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ