জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের খড়িঞ্চি গ্রামের আবাসিক এলাকার মধ্যে সেই ইটভাটা আবার চালু করার তোড়জোড় চলছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ইট তৈরির কাজ। আর এতে চরম পরিবেশ দুষনের মুখে পড়তে যাচ্ছে গোটা এলাকা। সব থেকে বেশি ঝুকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমোতি শিক্ষার্থীদের।
সূত্রমতে, ২০১৬ সালে খেদাপাড়া ও খড়িঞ্চি মৌজার প্রায় বিশ বিঘা ধানি জমির উপর নির্মাণ করা হয় ইটভাটাটি। যার নাম করন করা হয় আর এম ব্রিকস।
ভুক্তভোগি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোদে শুকাতে দেয়া ইট থেকে ও মাটির স্তুপ থেকে সামান্য বাতাসে ধুলো উড়ে যায় নিহার পোল্টি ফিড, খেদাপাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ও খড়িঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের ভিতরে। ধুলার মাত্র এতটাই ভয়াবহ যে বিদ্যুৎ অফিস ও বিদ্যালয় চলাকালিন অধিকাংশ সয়ম জানালা দরজা বন্ধ রেখে কার্যক্রম চালাতে হয়।
২০১৭ সালে ৫ ডিসেম্বর যশোর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আর এম. ব্রিকসের মালিক আব্দুর রাজ্জাক একটি আবেদন করেন। ২০১৮সালের ১২ নভেম্বর অন্যান্যে কাগজপত্রসহ পুনারায় আরেকটি আবেদন করেন। উক্ত আবেদন পত্র জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর খুলনা বিভাগীয় অফিসে অনুমোদনের জন্য পাঠায়। কিন্তুু খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্ততরা সরেজমিনে তদন্ত করে এবং আর এম ব্রিকসের দেয়া সমস্ত কাগজপত্র দেখে ২০১৯ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ও আবাসিক এলাকার ভিতরে ইটভাটা করা যাবে না মর্মে আবেদনপত্রটি বাতিল ঘোষনা করেন। এরপর ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ডাকযোগে এম.আর ব্রিকসের আবেদনপত্রটি বাতিল হয়েছে মর্মে মালিক আব্দুর রাজ্জাক বরাবর চিঠি দেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কাগজপত্র ছাড়াই কিভাবে তিনি ২০১৬ সাল থেকে দীর্ঘ ৫/৬ বছর কর্তৃপক্ষ ভাটা পরিচালনা করে আসছেন?
উপজেলার খড়িঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, তাদের বই খাতা স্কুল ব্যাগ ধুলোবালিতে ভরে যায়। দুপুরে টিফিন খেতে পারেনা বালি কিচ কিচ করে। এছাড়া স্কুলে এসে তার ঠিক মতো পাঠদান করতে পারেনা। ইট ভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের চেচামেচি ও ভাটায় অনাবরত ট্রাক আসা যাওয়ার শব্দে ক্লাশ করতে মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হয়। স্কুলের পাশে ইটভাটার কারণে বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার কোন পরিবেশ নেই বলে মনে করেন সচেতন মহল। অভিযোগ রয়েছে, ভাটা কর্তৃপক্ষ অন্যের কৃষি জমিতে জোরপূর্বক ইটভাটা নির্মাণ করা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ইতিপূর্বে একজন নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এব্যাপারে কথা হয়, খড়িঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, করোনার মহামারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি দেশের সকল স্কুল খুলেছে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুলের পাশে ইটভাটা থাকলে তো অসুবিধায় হয়। তারপরও বিদ্যালয় খোলার পর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে সম্প্রতি স্কুলের পক্ষ থেকে ভাটা কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম আব্দুল হক জানান, ওই ইটভাটায় তার ৭বিঘা ধানি জমি রয়েছে। ধানি ওই জমি লীজ নেয়ার নামে জোরপূর্বক দখল করে পুরোদমে চলাচ্ছে ইট তৈরির কাজ। ইট তৈরির জন্য তার ধানীজমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে বিশাল পুকুর তৈরি করা হয়েছে। পুকুর থেকে উঠানো সেই মাটির স্তুুপ থেকে ইঞ্জিন চালিত মেশিন দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে কাঁদা। বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে মামলাও করেছেন। যার সিআর নং ৩০০/২০২০। এদিকে ইঞ্জিন চালিত মেশিনের বিকট শব্দের কারনে আশে পাশের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও আবাসিক এলাকার সাধারন মানুষের কার্যক্রম চরম বিঘিœত হবে বলে মনে করছেন।
পল্লীবিদ্যুতের সাবেক এলাকা পরিচালক খুরশিদ আলম অন্টু জানান, আর এম. নামের এই ইটভাটাটি শতভাগ অবৈধ। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বিনা লাইসেন্সে চালিয়ে আসছে । যে কারণে ২০২০সালে জেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযান চালিয়ে ৫০হাজার টাকা জরিমানাসহ অবৈধ ইটভাটাটি বন্ধ করে দেন। তারপরও এবছর ভাটা চালু করার সকল প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। এখন চলছে ইট তৈরির কাজ। আর কয়েক দিন পরে তা ভাটায় পুড়ানো হবে। এ অবস্থায় চরম পরিবেশ দুষণের মুখে পড়তে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার জনসাধারণ।
এব্যাপারে ভাটা মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি নিয়ে জমির মালিকদের সাথে ২ডিসেম্বর বসাবসির কথা ছিলো। কিন্তুু উভয় পক্ষের হট্টগোলের কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক হারুন অর রশীদ জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলো। খুলনা বিভাগীয় কৃর্তপক্ষ যাচাই বাচাই করে আর এম ব্রিকসের আবেদনটি বাতিল করে দিয়েছে। এখন যদি অবৈধভাবে ইটভাটাটি চলে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

