শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

গায়েব হয়ে যাচ্ছে যশোর টেলিফোন অফিসের মালামাল

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:একের পর এর গায়েব হয়ে যাচ্ছে যশোর টেলিফোন অফিসের মালামাল। কয়েক মাসের মধ্যে দুইিিট জেনারেটর, ৮টি এসি ও বেশ কিছু দামি ক্যাবলের কোন হদিস নেই। নেই একটি পুরাতন গাড়িও। এছাড়া আরও কয়েকটি অভিযোগ এনে অফিসের কয়েকজন কর্মচারী চীফ জেনারেল ম্যানেজার টেলিকম, দক্ষিণ অঞ্চল বিটিসিএল, খুলনা বরাবর লিখিত দিয়েছেন। ওই চিঠিতে এসবের প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে-টেলিফোন ভবনের পিছনের একটি রুমে দুইটি জেনারেটর ছিল। কিন্তু এখন সেখানে তা আর দেখা যাচ্ছে না। ভবনের বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তত: ৮টি এসি গায়েব হয়ে গেছে। যেগুলোতে সামান্য ত্রুটি ছিল, তবে মেরামত করলে সেগুলো সচল হতো। ভবনের সামনে ২০০ পিয়ারের নতুন একটি নতুন ক্যাবল ড্রাম ছিল, যেটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নড়াইলে পাঠানো হয়। নড়াইলের কোথায় পাঠানো হয়েছে তা তারা জানতে পারেননি। অফিসের ভিতরে ও পিছনের একাধিক স্থানে বিভিন্ন পিয়ারের ৫ থেকে ৭ ড্রাম ক্যাবল রাখা ছিল। অফিসের সামনে ও ভিতরের ক্যাবলের কোন হদিস নেই। আর অফিসের পিছনে এখন শুধুই কভার পড়ে আছে। ভিতরের ক্যাবল বের করে নেওয়া হয়েছে। পহেলা মে ছুটির দিনে এক ড্রাম ক্যাবল গায়েব হয়ে গেছে। যেসবের দাম কয়েক কোটি টাকা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ধারণা দিয়েছেন। অফিসের সামনে একটি পুরনো গাড়ি ছিলো, যেটি কয়েক মাস হলো সেখানে আর নেই। এর আগে অফিসের যে গেট ছিল তা অনেক ভারী ও দামি ছিল। সেটি রাতের আঁধারে খুলে ফেলে সেখানে একটি টিনের গেট বানানো হয়েছে, যেটি একেবারেই হালকা ও কম দামি।
এছাড়া অফিসের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেশকিছু অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অমানবিক কার্যক্রমেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মচারীদের দিয়ে বিতরণকৃত টেলিফোন বিলের টাকা শতকরা ১০ থেকে ১৫ টাকা কেটে নেওয়া হয়। আবার কেটে নেওয়ার পরও বাকি টাকা পরিশোধ করা হয় না বলেও অভিযোগ। কর্মচারীরা কোন বিষয়ে আবেদন করলে তা আমলে নেওয়া হয় না। পড়ে থাকে মাসের পর মাস। বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি ও বদলীর ভয় দেখিয়ে নি¤œ বেতনের কর্মচারীদের কাছে দেড় থেকে দু’হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয় বলেও ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাসপেন্ডকৃত কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ওয়ার্কচার্জ মোক্তার হোসেন সাসপেন্ডে আছেন, তাকে দিয়ে বর্তমানে কালীগঞ্জ এক্সচেঞ্জে নাইট গার্ডের ডিউটি করানো হচ্ছে। এলপিআরে যাওয়ার পরও মীর ওয়াহিদকে দিয়ে প্রধান সহকারীর কাজ করানো হচ্ছে। অফিসের মালামাল গায়েব হওয়ার পেছনে ওই প্রধান সহকারীর যোগসূত্র রয়েছে বলে সেখানকার কর্মচারীরা ধারণা করছেন। এর সাথে অফিসের কর্মচারী মোজাম্মেল হক, আখতার হোসেন ও শান্তাও জড়িত আছেন বলে কর্মচারীরা বিভিন্নখাবে আঁচ করতে পেরেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে টেলিফোন অফিসের উপ মহা ব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত হিমাংশু হালদার বলেন, অফিসের কোন মালামাল চুরি বা গয়েব হয়নি। সব রেজিস্টার মেইনটেন করে স্টোর রুমে রাখা হয়েছে। অন্য সব অভিযোগও ভিত্তিহীন। চীফ জেনারেল ম্যানেজার টেলিকম, দক্ষিণ অঞ্চল বিটিসিএল, খুলনা বরাবর যে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটি বেনামি এবং ভুয়া।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ