নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর, প্রধান মন্ত্রীর দেওয়া গৃহ ও ভূমিহীনদের নতুন ঘর ও যায়গা দেওয়ার কথা বলে শতাধীক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হাসান আলী (৫৩) নামে এক প্রতারক। তাও আবার সদর উপজেলো নির্বাহী অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে। প্রতারনার কাজে ব্যাবহার করা হয় নির্বাহী অফিসের সীল ও আবেদন ফরম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের খালধার রোড এলাকা থেকে ওই প্রতারককে ধরে থানায় সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। প্রতারক হাসান আলী শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার সাবের আলীর ছেলে।
শহরের খালধার রোডের বাসিন্ধা জসিম উদ্দিন জানান, তিনি হত দরিদ্র রিকসা চালক।
তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমি ও ঘর দেয়ার কথা বলে হাসান আলী সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়েছে। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসের সীলযুক্ত ঘর প্রদানের একটি রিসিভ কপি দেয় এবং বলেন তার দরখাস্ত নির্বাহী অফিসের অফিসে জমা হয়েছে। সাত মাস পর হলও ঘর বা জমির কোন ব্যবস্থা করা হয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন তানিয়া পারভীন নামে অপর এক মহিলা। তার কাছ থেকে হাসান আলী ২ হাজার ৫ শ’ টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
এমন অভিযোগ করেছেন বারান্দী মোল্যাপাড়ার রফিকুল, বটতলার শাকিল,মঈন,আরতী রানী,আনিসুর রহমান, আকতার খানসহ ২০ জন নারী পুরুষ।তারা দাবি করেন শতাধীক ব্যক্তির কাছ থেকে হাসান ইকবাল অন্তত ৫
লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এদিকে টাকা দেয়ার পরও উপহারের ঘর বা জমি না পেয়ে তারা হতাশায় পড়ে। এসময় জানতে পারে হাসান আলী একজন প্রতারক। এটি জানার পর তারা ওই প্রতারককে খোজা খুজি করতে থাকে। মঙ্গলবার বিকালে খালদারোড এলাকা তাকে দেখতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা তাকে ধরে পুলিশে দেয়।
এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসের সীল এবং সরকার নির্ধারিত ফরম কিভাবে প্রতারক হাসান ব্যবহার করল তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃস্টি হয়েছে। অনেকের মন্তব্য এই প্রতারণার সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কারো যোগসুত্র থাকতে পারে। কিন্তু ঘটনার দুইদিন পরও উপজেলা প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় চলছে গুঞ্জন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুপ দাশ বলেন, বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী তাকে ফোনে জানিয়েছেন। গতকাল ছুটি থাকায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নেয়া হয়েছে। অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, যশোর সদর উপজেলাকে শতভাগ ভুমিহীনমুক্ত ঘোষনার পরও এমন একটি ঘটনা নিন্দনীয়। এই প্রতারণা সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস বলে তিনি মনে করেন। এটি অধিকতর তদন্ত এবং অপরাধিদের আইনের আওতায় আনা দরকার।
এব্যাপরে জেলা প্রশাসক আবরাউল হাসান মজুমদার বলেন, বিষয়টি জানার পর আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে ।
কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলার হয়েছে।

