একাত্তর ডেস্ক:
বর্তমান সময়ে হার্ট ফেইলিউর শুধু প্রবীণদেরই নয়, যে কারো যেকোনো বয়সে দেখা দিচ্ছে এই জটিল অবস্থা। এটি এমন একটি রোগ, যার প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। তাই হার্ট ফেইলিউরকে চেনা এবং তার আগাম প্রতিরোধ করাই সচেতন হওয়া একমাত্র উপায়।
হার্ট ফেইলিউর একটি স্পেকট্রাম রোগ।
অর্থাৎ এর লক্ষণ ও প্রভাব ব্যক্তিভেদে, বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। হার্ট আমাদের দেহে ‘জেনারেটর’এর কাজ করে, যার মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি কোষে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া হয়। এই রক্ত সরবরাহ নির্ভর করে হার্টের সঠিক পাম্পিং ক্ষমতার ওপর।
যখন হার্ট তার স্বাভাবিক চাপ ও গতিতে রক্ত পাম্প করতে পারে না, কিংবা শরীরের চাহিদা মেটাতে পেছনের চাপ বা হার্ট রেট বাড়াতে হয়, তখনই তাকে হার্ট ফেইলিউর বলা হয়।
যদি হার্ট পেছনের চাপ ঠিকভাবে না সামলে উঠতে পারে, তা হলে ফুসফুসে রক্ত জমা হতে শুরু করে। ফলে ফুসফুসের পেছনের শিরাতন্ত্র (ভেনাস সিস্টেম) ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরে দেখা দেয় নানা জটিলতা, হাত-পা ফুলে যাওয়া বা অবশ হয়ে যাওয়া, লিভারে পানি জমে পেট ফুলে ওঠা, ক্ষুধামান্দ্য, পেট ব্যথা, এমনকি প্লীহার কার্যক্ষমতা হারিয়ে যাওয়া।
অন্যদিকে, সামনের দিকে চাপ কম থাকলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না। মাথা ঝিমঝিম করা, কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস বা পা-অবশ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
হার্ট ফেইলিউরকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমত, রিডিউসড ইজেকশন ফ্র্যাকশন, যেখানে হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায়। অন্যটি হচ্ছে, প্রিজার্ভড ইজেকশন ফ্র্যাকশন। যেখানে হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলেও চাপ বেড়ে গিয়ে কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়।
নারী নাকি পুরুষ, কাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি
বিশ্বজুড়ে পুরুষদের মধ্যে হার্ট ফেইলিউরের প্রকোপ বেশি এবং তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় রিডিউসড ইজেকশন ফ্র্যাকশন।
কারণ হিসেবে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, ধূমপান ও মদ্যপানের প্রবণতা। ফলে হার্ট অ্যাটাকের পর হার্টের একাধিক দেওয়াল নষ্ট হয়ে গিয়ে পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায়।
নারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে প্রিজার্ভড ইজেকশন ফ্র্যাকশন বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে ৬০ বছরের পর, বয়সজনিত নানা পরিবর্তনের কারণে হার্টের ওপর চাপ বাড়ে, যার ফলে তারা হার্ট ফেইলিউরের শিকার হন। তবে পুরুষদের তুলনায় সংখ্যায় কম।
প্রতিরোধই উপায়
হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউর-উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম থেকেই চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যু বা জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস, প্রেশার, ওজন বৃদ্ধি, থাইরয়েড, ধূমপান বা মদ্যপানের মতো কারণও বেড়ে চলে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জীবনযাত্রায় নিয়ম ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন/ কালের কন্ঠ

