শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল

আরো খবর

 

‎শফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :‎সাতক্ষীরার তালা ইসলামকাটি ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে সরকারি জমির নামজারি সহ বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

‎সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা ঘুষ আদায় করছেন নায়েব আব্দুল জলিল। তার ঘুষ বাণিজ্য অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জমির মালিকরা।বাংলাদেশ সরকার ভূমির নামজারির ফি ১ হাজার১শত ৭০ টাকা নির্ধারণ করলেও তিনি অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন।

‎ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এর আগেও ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বরখাস্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। সে সময় গোপন তদবির বানিজ্যের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান করেন।যোগদানের পর জলিল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন।তার চাকুরি আর বেশী দিন নেই, একারনে তিনি রেট বেঁধে ঘুষ খান যাতে তদবির বানিজ্যে করে চাকরিতে বহাল হতে যত টাকা খরচ হয়েছে তার তিন গুন উসুল করতে পারেন।

‎জানাযায় , ইসলামকাটি ভূমি অফিসে যোগদান করার পুর্বে নায়েব আব্দুল জলিল খেশরা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে দায়িত্বে ছিলেন।সেখানে থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যক্তি। উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের আনোয়ারা বেগম, রুনা খাতুন, রাণী পারভীন, রত্না বেগম ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম আভিযোগ করেন ওয়ারেশ সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি করতে গেলে নায়েব আব্দুল জলিল তাদের কাছে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। চুক্তি অনুযায়ী তারা ৬৮ হাজার নগদ প্রদান করেন।

নামজারি আবেদন করলে নায়েব আব্দুল জলিল ২৫/৯/২৩ ইং তারিখে দুইটা নামজারি করে দেন। যাহার মামলা নং ২৪৩৪ ও ২৪৩৬ । আবেদন কারী আনোয়ারা, রুনা খাতুন ও রাণী পারভীনের নামজারি এখনো পর্যন্ত করে দেননি। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে আজ-কাল দেবো বলে শুধু কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই সাথে আব্দুল জলিলকে খেশরা থেকে ইসলামকাটি ইউনিয়ন ভুমি অফিসে বদলি করেন।

‎ইসলামকাটি ভুমি অফিসে যোগদানকরে সহকারি ভুমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্য শুরু করেন।

‎জানায়ায়,গণডাঙ্গা মৌজার ক-তফসিলভুক্ত সরকারি জমি নামজারি করে দিয়ে আজগার সরদার গংদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। যার মৌজা গণডাঙ্গা, জে,এল নাম্বার ৬২ সাবেক দাগ নং ২৬৯ ও হাল দাগ নং ৫৮৯ এর জমির পরিমাণ ১১ শতক। যাহার মিউটেশন আবেদন নং ৬৮৯৮৩৮৩ ও মিউটেশন মামলা নাম্বার ৫২২০। গত ২৬/২/২৫ ইং তারিখে তিনি এই নামজারি করে দেন। নামজারি করার পরে সেই জমি ২৭/৩/২০২৫ ইং তারিখে বিক্রি করে দেন। যাহার দলিল নং ১১৭৯।জমি গ্রহিতা ঢ্যামসাখোলা গ্রামের নুর আলী সরদারের ছেলে আকবার সরদার। আর জমি দাতা তার আপন ভাই আজগর আলী সরদার।

‎এখানেই শেষ নয়,গোপন সূত্রে আরো জানা যায়, কয়েক লক্ষ টাকার ঘুষের বিনিময়ে সুজনশাহা মৌজায় ক-তফসিলভুক্ত সরকারি জমি মেহেদী ও তাহমিনা নামে নামজারি করে দিয়েছেন। যাহার তথ্য চাইলে নায়েব আব্দুল জলিল দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি তিনি সাংবাদিকের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচারন করেন।এসময় তিনি বলেন যান যা পারেন লেখেন, লিখে আমার বা* ছিড়ে নিয়েন।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ,‎সামান্য ভুল থাকলেও জমির মালিকদের কাছ থেকে নিজে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণে তিনি কয়েকগুণ টাকা নিয়ে থাকেন। এই ভূমি অফিসের চৌকাঠ পেরুলেই ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিলের নিজের করা আইন মানতে হয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে। তার দাবিকৃত ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করলে নানা টালবাহানা করে জমির মালিকদের হয়রানি করেন। ভূমি অফিসে নামজারি, জমিভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তোলা সহ সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিকভাবে বাড়তি টাকা নেন তিনি। তার দুর্নীতির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ভুমি মালিকেরা। ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল দিনের পর দিন তিনি দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ জনগণ ও নিরীহ মানুষের নিকট থেকে । ঘুষখোর এই ভূমি কর্মকর্তা তাঁর ইচ্ছামত দুর্নীতি করে চলেছেন।

‎ইসলামকাটি ভুমি অফিসের কম্পিউটারের গোপন পাসওয়ার্ড পার্শ্ববর্তী বাজারে কম্পিউটার দোকানে হস্তান্তর করে ভুয়া নামজারির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ও অভিযোগ উঠে নায়েব জলিলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি তালা সহকারী কশিশনর ভুমি কর্মকর্তার নজরে আসলে সরেজমিনে এসে তিনি গোপন পাসওয়ার্ডটি বন্ধ করে দেন এবং তাকে খলিলনগর ইউনিয়নে বদলি করেন।

‎এসব বিষয়ে নায়েব আব্দুল জলিলের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,আমার বিরুদ্ধে একটি মহাল অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ