শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

চাকরির জন্য প্রতারকের কাছে টাকা দিয়ে কেশবপুরে নিঃস্ব একাধিক পরিবার

আরো খবর

 নিজস্ব প্রতিবেদক:

কেশবপুরসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য বেকার শিক্ষিত যুবকদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আক্তারুজ্জামান সেলিম নামে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। এনএসআই ও পুলিশের এসআইসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি। টাকা বা চাকুরী কোনটায় না পেয়ে দূর্বিসহ জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগীরা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রতারক আক্তারুজ্জামান সেলিম কেশবপুর উপজেলার ঝিকরা গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমান মোড়লের ছেলে। বর্তমানে অভিযুক্ত সেলিম মুংলা উত্তারা ব্যাংকে কর্মরত এবং সে গ্রামের বাড়ী ছেড়ে খুলনাতে স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন। ঐ প্রতারক সেলিম নিজেকে ২৭ তম বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে কেশবপুর, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বেকার শিক্ষিত যুবকদেরকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশী হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুন্ধানে আরো জানা গেছে, প্রতারক সেলিম কুষ্টিয়ার চয়েন (আনসার ব্যটালিয়ানের সদস্য) নামে এক দালালের মাধ্যমে বেশীর ভাগ টাকা লেনদেন করেন বলে সূত্র জানায়। চাকুরীর নামে অবৈধভারে হাতিয়ে নেওয়া কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রতারক সেলিম তার স্ত্রীর নামে খুলনা, কেশবপুর ও সাগরদাঁড়ি বাজারে জমি ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে।
কেশবপুর উপজেলার ঝিকরা গ্রামের ভুক্তভোগী আজিবার রহমান মোড়ল বলেন, সেলিম আমার প্রতিবেশী ভাইপো। সে আমার ছেলে শামিম রেজাকে কাস্টমস অফিসার পদে চাকুরী দিবে বলে ৫/৬ বছর আগে ১৫ লক্ষ টাকা চুক্তিতে অগ্রীম ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নেয়। বাকী টাকা নিয়োগের পরে দিতে হবে বলে জানায়। চাকুরী তো দিলই না উল্টো তার প্রতারনার শিকার হয়ে আমার ছেলের সরকারী চাকরীর বয়সও শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া আমার গ্রামের অনেকের কাছ থেকে চাকুরীর নামে সে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে।
তিনি আরো জানান, শুনেছি কেশবপুর ছাড়াও মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, খুলনা জেলার বহু শিক্ষিত বেকার যুবকদের কাছ থেকে কাস্টমস, এনএসআই ও পুলশের এসআইতে চাকুরি দেয়ার নামে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা।
একই গ্রামের মৃত ওয়াদুদ খাঁর ছেলে ইমরান হোসেন বলেন, আমার কাছ থেকে এস.আই পদে চাকুরী দিবে বলে ৬ বছর আগে নগত ৫ লক্ষ টাকা দিই সেলিমকে।
ওই গ্রামের আহাদ মাষ্টার জানান, আমার ছেলে শিমুলের চাকরীর জন্য ৫/৬ বছর আগে সেলিম আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নেয়।
আরেক ভুক্তভোগী প্রতাপপুর গ্রামের আকবার আলী মোড়লের ছেলে রিপন বলেন, সেলিম আমার আপন খালাত ভাই, কাস্টমসে চাকরির কথা বলে আমার কাছ থেকে ৯ লখ টাকা নিয়েছে।
শ্রিপুর গ্রামের রানা বলেন, এন.এস আই পদে চাকুরির কথা বলে সেলিম আমার কাছ থেকে নগদ ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছে।
উল্লেখিত ব্যক্তিদের এখনো পর্যন্ত কোন চাকুরী বা টাকা ফেরৎ দেয়নি সেলিম। এইভাবে সে অসংখ্য শিক্ষীত বেকার যুবকদের প্রতারনার ফাঁদে ফেলে চাকুরীর নামে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা।
এব্যাপারে অভিযুক্ত আক্তরুজ্জামান সেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের  বলেন,  যারা চাকরি পাইনি পর্যায়ক্রমে তাদেরকে টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ