ম্যাচের চারদিন আগে পুনের টিম হোটেল থেকে সাংবাদিকদের বের করে দিতে বলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন লিটন কুমার দাস। পরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অনিয়ন্ত্রিত ট্রল হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদ পোর্টালে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করে প্রতিবেদন করা হয়েছে, তাতে নিঃসন্দেহে মানসিক চাপ বাড়তে বাধ্য।
বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে তাঁর ৬৬ রানের ইনিংস হয়তো সে মানসিক চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে। যদিও সেট হয়ে যাওয়ার পর সমর্থকরা তাঁর কাছ থেকে সেঞ্চুরির ইনিংসই প্রত্যাশা করেছিলেন। রবীন্দ্র জাদেজাকে ওভাবে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ক্যাচ দেওয়াটাও অপ্রত্যাশিত ছিল। তার পরও তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে লিটনের জুটিটা দলের ভিত তৈরি করে দিয়েছিল, যা কিনা নাজমুল হোসেন শান্ত-তাওহিদ হৃদয়রা এগিয়ে নিতে পারেননি। অধিনায়ক নিজে আউট হয়েছেন ৮ রানে, তাওহিদ বাজে শট খেলে ফিরে গেছেন ১৬ রানে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ দুই ব্যাটারের পারফরম্যান্স ছুরি-কাঁচির নিচে পড়েনি।
অথচ বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে নাজমুল হোসেন শান্তকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল তাঁর পারফরম্যান্স দেখেই। তখন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছিলেন, ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন লিটন। কিন্তু লিটন কি কখনও মিডিয়ার সামনে তা বলেছিলেন? কিংবা তাঁকে কি কেউ কখনও জিজ্ঞেস করেছিলেন– কেন তিনি সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন? আসলে বিশ্বকাপে আসার আগে তিন ওয়ানডে ইনিংস আগে লিটনের হাফ সেঞ্চুরি ছিল।
মাঝের ম্যাচগুলোতে সেভাবে রান না পাওয়াতেই সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সাকিব আল হাসানকেও বলতে হয়, ‘লিটনের বর্তমান ফর্ম নিয়ে আমি চিন্তিত না। বিশ্বকাপে দুটি ভালো ম্যাচ খেললেই হবে।’
সাকিবের প্রত্যাশার সেই ভালো দুটি ম্যাচ এখনও আসেনি লিটনের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৭৬, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য আর ভারতের সঙ্গে ৬৬ রান। যার মধ্যে ধারাবাহিকতা হয়তো অনেকেই দেখবেন না। কেননা, দু্টি হাফ সেঞ্চুরি ইনিংসের মাঝে শূন্য রয়েছে তাঁর। আসলে তাঁর কাছে সমর্থক, টিম ম্যানেজমেন্ট ও মিডিয়া– প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেটা থেকে বিচ্যুত হলেই সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হবে তাঁকে।
দলের জন্য ইমপ্যাক্ট ইনিংস খেলতেই হবে তাঁকে। যেটা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আসেনি। হয়তো পরিসংখ্যান বলবে, এবারের আসরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের মধ্যে মুশফিকুর রহিমের চার ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৫৭ রানের পরই লিটনের ১৫৫। কিন্তু দল যখন জয়ের জন্য হন্যে, তখন এসব ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের খুব বেশি মূল্য নেই। প্রত্যাশার চাপ সামলেই লিটনকে বড় ইনিংস খেলতে হবে।

