বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

চিপস কিনতে গিয়ে বেঁচে যান বাবা-মেয়ে, হারিয়েছেন স্ত্রী-পুত্র

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:স্বজনদের সৌজন্যে যে ছবিটি পাওয়া গেল তাতে চার বছর বয়সী মেয়ে নওয়ারা আক্তারকে কোলে নিয়ে আছেন নুরুজ্জামান। নওয়ারার কানে গোঁজা লাল রঙের ফুল। পাশে দাঁড়ানো স্ত্রী আয়েশা আক্তারের কোলে ৭ মাসের ছেলে আরশান। ঈদে তোলা এই ছবিটি এখন নুরুজ্জামানের কাছে পারিবারিক সুখস্মৃতির সবশেষ স্মারক।

বুধবার পদ্মা নদীতে স্ত্রী ও পুত্র সন্তানকে হারিয়েছেন নুরুজ্জামান। তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ পরিবহনের বাসটিতে ছিলেন তারা। মেয়েকে নিয়ে নুরুজ্জামান গিয়েছিলেন চিপস কিনতে। ঘাটে ফিরে জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য যাত্রীদের নিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে তলিয়ে গেছে। ঈদ উদযাপন শেষে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ঢাকায় ফিরতে চাওয়া নুরুজ্জামানের মাথায় যেন ওই মুহূর্তে আকাশ ভেঙে পড়ে।

শৈলকুপায় নুরুজ্জামানদের বাড়ি কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে ছিল শুনশান নীরবতা। নুরুজ্জামানের বাবা কামরুজ্জামান প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঢাকার সাভারের নয়ারহাটে যাওয়ার। আয়েশার বাবার বাড়ি সাভারে। সেখানে ছেলেসহ তাঁকে দাফন করা হবে।

কামরুজ্জামান জানান, সাভার ও মিরপুর সিআরপি হাসপাতালে চাকরি করতেন আয়েশা-নুরুজ্জামান দম্পতি। সন্তানদের নিয়ে ঈদের কয়েকদিন আগে বাড়ি ফেরেন। বুধবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে।

নাতি-নাতনিকে বিদায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে মোবাইল ফোনে নুরুজ্জামানের কল পান কামরুজ্জামান। ওপর পাশ থেকে কাঁদতে কাঁদতে ছেলে জানান, ‘আব্বা আমার সব শেষ। আপনার বৌমা, আরশান পদ্মায় তলিয়ে গেছে।’

কামরুজ্জামানের সঙ্গে ওই ফোনালাপের সময়ই চিপস কিনতে গিয়ে নিজে বেঁচে যাওয়ার কথা জানান নুরুজ্জামান। ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রাত তিনটার দিকে বাসের ভেতর থেকে তাঁর স্ত্রী ও পুত্র সন্তানের লাশ উদ্ধার হয়।

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে নুরুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প বসতো। তাঁর ভাতিজা মোবাস্বির আহেমদ বলেন, তাঁর চাচা-চাচি মিলে এ কাজ করতেন। কিন্তু এবার নিজেরা অসুস্থ থাকায় ক্যাম্প করতে পারেননি।

ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে গত মঙ্গলবার রাতে আত্মীয় বুলবুল আহমেদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল নুরুজ্জামানের। বলেছিলেন, ‘ভাগনে আগামীকাল (বুধবার) চলে যাচ্ছি। দেখা হবে না।’ বুলবুল বলেন, সেটি ছিল বিদায়ের আগে সৌজন্যতার আলাপ। কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারটির হৃদয় বিদারক কোনো ঘটনার কথা শুনতে হবে তা ভাবনাতেও ছিল না। এমন কিছু কেউ আসলে ভাবেও না।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তলিয়ে যাওয়া বাসটি বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয়েছে। আয়েশা-আরশানসহ শনাক্ত হয়েছে ২৬ জনের মরদেহ।
সূত্র: সমকাল

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ