কুমড়ো বড়ি। যশোরের চৌগাছা উপজেলার মানুষের প্রিয় একটি খাবারের নাম। স্বাদে অতুলনীয় এই খাবার শীত মৌসুম এলেই গ্রামীণ নারীরা তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। এজন্য শীত এলেই গ্রামে গ্রামে (কুমড়ো-কলাই দিয়ে তৈরি) বড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায় । এ অঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে কুমড়ো বড়ি এখন সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে শুধু বাড়িতে খাওয়ার জন্যই নয়; এর বিপণনও হচ্ছে সারাদেশে। যারা ইতিপূর্বে এর নাম শোনেননি, তারাও এখন নিতে পারছেন এর স্বাদ।
সারা বছরই বাজারে বিভিন্ন ধরনের কুমড়ো বড়ি পাওয়া যায়। কিন্তু এ অঞ্চলে সাধারণত চালকুমড়োর সঙ্গে মাষকলাই (কালো টিকরি কলাই) ডাল মিশিয়ে তৈরি বড়িই স্থানীয়দের বেশি প্রিয়। মাছের ঝোল বা সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া হয় উপাদেয় এই খাবারটি। বহু বছর ধরেই গ্রামগঞ্জের নারীরা বাড়িতে খাওয়ার জন্য কুমড়ো বড়ি তৈরি ও সংরক্ষণ করতেন। এখন এটি বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। বর্তমানে কুমড়ো বড়ি বিক্রির জন্য তৈরি হচ্ছে অন লাইন প্লাটফর্ম। চৌগাছার এই ঐতিহ্য খাবার এখন অনলাইনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করছেন উদ্যোক্তরা।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও শীত মৌসুসে গ্রামে গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। আগে শুধু বাড়িতে খাওয়া এবং আত্মীয়স্বজনদের দেয়ার জন্য কুমড়ো বড়ি তৈরি করতেন নারীরা। এখন বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্যও প্রচুর পরিমাণে কুমড়ো বড়ি তৈরি হচ্ছে।
বড়ি তৈরির পদ্ধতি জানাতে গিয়ে কথা হয় শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোনিয়া খাতুন, ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পারভিনা বেগম ও উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের রুপালি খাতুনের সাথে। তারা বললেন, বড়ি দেওয়ার আগের দিন খোসা ছাড়ানো মাষকলাই ডাল পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। আর সন্ধ্যায় পাকা চালকুমড়ার খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের নরম অংশ পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হয়।
প্রতি বছর শীত এলেই চালকুমড়ো ও মাষকলাইয়ের ডাল দিয়ে বড়ি তৈরি করেন উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের ইরানি জানালেন, ‘বড়ি রোদে শুকিয়ে কৌটায় ভরে অনেক দিন রাখা যায়। তরকারিতে এ বড়ি দিলে খাবার খুব সুস্বাদু হয়।’
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মিতা বিবি এবছর কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি জানালেন, ডাল ও কুমড়ো ভালভাবে ফেনাতে (একসাথে মিশানো) হয়। তারপর রোদে ভালভাবে শুকাতে হয়। পুরো প্রক্রিয়া ঠিকমত সম্পন্ন না হলে বড়ির স্বাদ ভালো হয় না।
একই গ্রামের বাসিন্দা পারভিনা জানালেন, ভালো শীত না পড়লে কুমড়ো বড়ি ভালো হয় না। এটি তেলে ভেজে মাছ বা সবজিতে দিলে খাবারের স্বাদ ও মান বেড়ে যায়।
এদিকে শখ বা ঐতিহ্যের খাবার কুমড়ো বড়ি’র বাণিজ্যিক কদরও বাড়ছে। বিশেষ করে অনলাইন পেজ বা পস্নাটফর্মগুলোতেও বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে কুমড়ো বড়িও বিক্রি হচ্ছে। গ্রামের শিক্ষিত নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরি করে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিক্রি করছেন। নিজেরা কুমড়ো তৈরি করে বিক্রর করায় ভালো লাভবান হচ্ছে বলে জানায় পারভিনা বেগম ও রিক্তা খাতুন।
তারা আরও জানালেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইনে তারা কুমড়ো বড়ির অর্ডার পাচ্ছেন। এমনকি যারা কোনোদিন নামও শোনেননি, তারাও আগ্রহী হয়ে রান্নার পদ্ধতি জেনে ক্রয় করছেন এবং স্বাদ পরখ করে একাধিক বার ক্রয় করছেন অনেকেই। শুধু দেশেই নয়; প্রবাসীদের কাছেও এর চাহিদা রয়েছে বলে জানা গেছে।

