আবু জাফর,চৌগাছা থেকে:
যশোরের চৌগাছায় নারীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার (২২ জানুয়ারী) প্রতারক দুই নারীসদস্যসহ ৬জনকে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশ। এব্যাপারে চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
যশোরের চৌগাছায় নারীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার (২২ জানুয়ারী) প্রতারক দুই নারীসদস্যসহ ৬জনকে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশ। এব্যাপারে চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২১ জানুয়ারি দুপুরে নারী প্রতারক রুপালী পৌর শহরের কালিতলা এলাকার জনৈক সাইফুল ইসলামের ভাড়া করা বারিতে নিয়ে যায়। রুপালী উপজেলার যাত্রপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায় ভিক্টিম আব্দুুর রহমানকে রুপালী পৌর শহরের কালিতলায় তার ভাড়া বাড়ীতে নিয়ে যায়। এসময় তার কাছে থাকা একটি টাস মেবাইল ও দু হাজার টাকা কেড়ে নেয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। একপর্যায় তাকে হত্যা ও গুমের ভয় দেখিয়ে উপজেলার বেড়গিবিন্দপুর বাওড়ের ধারে নিয়ে যায় । রাতে আফরা গ্রামের জহিরুল ইলামের বাড়ীতে নেয়।
সেখানে তাকে একটি বন্ধ ঘরে আটকিয়ে রাখে। সেখান থেকে দেহব্যবসায়ী নারী চক্রের সদস্যরা আব্দুর রহমানের মোবাইল থেকে তার ভাই মোস্তাকের কাছে সর্বশেষ ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এসময় মোস্তাক যশোর ডিবি পুলিশের জানালে চৌগাছা থানা ও যশোর ডিবি পুলিশ জহুরুলের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রতারক চক্রে নারী সদস্য রুপালী খাতুনকে আটক করেন।
রুপালীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার কয়ারপাড়া গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে নান্নু রহমান (৩৫) ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুনতানা (২৯), মনমতপুর গ্রামের তাইজুল ইসলামের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩০), একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে হৃদয় মহিবুল (২৮)ও ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া গ্রামের আয়ূব হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান (৩৭) তিনি বর্তমানে চৌগাছা পৌর শহরের কালিতলা এলাকায় বাসা ভাড়ায় বসবাস করেন।
প্রতারণার ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া আব্দুর রহমান বলেন, তাকে দুমাস আগে রুপালী লোভ দেখিয়ে একবার চৌগাছার বাগপাড়ার বাসায় ডেকে নিয়ে আসে। ২১ জানুয়ারি রুপালি আমাকে আবার ডেকে
প্রথমে পৌর শহরের কালিতলায় তার বাসায় নিয়ে যায় । আমি সেখানে গেলে এ চক্রের সদস্যরা আমাকে অস্ত্রে মুখে জিম্মি করে রুপালীর সাথে প্রথমে বিভিন্ন ভাবে নগ্ন ছবি ওভিডিও করে। পরে সেখান থেকে বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ে নিয়ে যায়।
সেখানে তারা আমার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সন্ধ্যা নেমে এলে সে খান থেকে উপজেলার আফরা গ্রামের জহিরুল ইলামের বাড়ীতে নেয়। সেখানে আমাকে একটি বন্ধ ঘরে আটকিয়ে রাখে। সেখান থেকে দেহব্যবসায়ী নারী চক্রের সদস্যরা আমার মোবাইল থেকে আমার বাড়ীতে প্রথমে ৫ লাখ পরে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি আমার ভাই মোস্তাক চৌগাছা থানা ও যশোর ডিবি পুলিশকে জানালে তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।
এলকাবাসীর অভিযোগ বিভিন্ন এলাকা ও পৌর শহরে নারীরা প্রতারনার ফাঁদ পেতে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। নারীরা খুব সহজেই একে অপরের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। প্রতারণার মাত্রা এখন এতটাই প্রবল যে, এটা বড় ধরনের অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে।
দেহ ব্যবসায়ী নারীদের ফাঁদে পড়ে মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। অনেকে এ নারীদের ফাঁদে ফেঁসে সমাজ পরিবার ও সম্মানের কথা চিন্তা করে লাখ লাখ গুনতে হচ্ছে।
মালার তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি একজন শিক্ষক এ নারী চক্রের ফাঁদে পড়েন। তিনি তাদের চাহিদা মত ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে এ চক্রের সন্ত্রাসীরা ঐ শিক্ষকের অর্ধউলঙ্গ এক নারীর সাথে জোরপূর্বক ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। যে ভিডিওটি বর্তমানে টপঅফদ্যা চৌগাছা। এর আগে চৌগাছা থানার ওসির এমন প্রতরনার ফাদে পড়ে বদলি হতে হয়েছে।
চৌগাছার এক কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, এ চক্রের এক সদস্য আমাকে টার্গেট করে দীর্ঘদিন আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। আমি বুঝতে পেরে নিজেকে সেভ করেছি। তিনি বলেন এদের প্রতিহত করতে হবে যে কোনো উপায়ে। না হলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। দ্রুত সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এই প্রতারণার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এর জন্য প্রয়োজন স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগ।
যশোর ডিবি পুলিশ বলছেন এ দেহ ব্যবসায়ী নারী চক্রের হাতে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরাসহ অনেকেই ফেঁসেছেন। কেউ নিরাপদ নেই। চারদিকে প্রতারণার এ ফাঁদ বিস্তার করে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ চক্রের রয়েছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। যার ফলে সমাজের নিরীহ মানুষের মধ্যে স্বস্তি-শান্তি নেই। মানুষ নানা ভাবে এ খারাপ নারীদের দ্বারা প্রতারিত ও জিম্মি হচ্ছে। চারদিকে প্রতারণার নতুন নতুন ফাঁদ পাতা রয়েছে। একটু অসচেতন অসাবধান হলে যে কেউ এ ফাঁদে পা দিতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এদের ধরার ব্যাপারে বেশ সক্রিয়। এদের রয়েছে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী চক্র। এরা প্রথমে সমাজের প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর যোগাড় করে। প্রথমে মিসকল দেয়। পরে কল ব্যাক করলে কথার জালে ফাঁসিয়ে তার নিকটতম হওয়ার চেষ্টা করে। এ ভাবে কিছু দিন চলার পর নামিদামী কোন ফাস্টফুডের স্টলে দেখা করার অফার দেয়। এ ভাবে চলে কিছু দিন। এর মধ্যে নারী প্রতারকদের দালালরা (সন্ত্রাসীরা) ঐ ব্যক্তির গতিবিধী লক্ষ্য করে।
সুযোগ বুঝে দেহ ব্যবসায়ী নারী ও তাদের চক্রের সদস্যরা ফাঁদে পড়া ব্যক্তির অজানতেই বিশেষ মূহুর্ত গুলোর ভিডিও ধারণ করে। এর পর সেই ভিডিওকে পুঁজি করে শুরু হয় লাখ লাখ টাকা হাতানো। ফাঁদে পড়া ব্যক্তি সমাজে ও পরিবারের সম্মান রক্ষা করতেই এ প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দেন লাখ লাখ টাকা।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয়েছে। চৌগাছা থানা পুলিশ ও যশোর ডিবির যৌথ অভিযানে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ধরণের প্রতারকদের পাকড়াও করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে।

