শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

চৌগাছার ভাদড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় শ্রেণী কক্ষে রাতভর চলছে ফ্যান

আরো খবর

চৌগাছা প্রতিনিধি: সারা দেশে সরকার যখন কঠোরভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চিন্তা করছে, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ অপচয় করে চৌগাছার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ভাদড়া সরকারি প্রাথমিক বিল্যালয়ে ৩টি শ্রেণী কক্ষে রাতভর চলছে ১২ টি ফ্যান। দেশের বিদ্যুৎতের সংকটাপন্ন মুহূর্তে ফাঁকা শ্রেণীকক্ষে রাতভর ফ্যান চালুরাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায়, এ নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

জানা যায়, সোমবার রাতে ভাদড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ টি শ্রেণী কক্ষে ১২ টি ফ্যান চালু রেখে স্কুল ত্যাগ করে কতৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্কুল কতৃপক্ষকে জানানো হয়। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, একাধিকবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফ্যান চালু থাকার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের জানানো হলেও তারা আমলে নেননি। এলাকাবাসী আরও বলেন, এই ধরণের অসচেতনতা এটিই প্রথমবার নয়।

প্রায়শই স্কুল বন্ধ থাকলেও শ্রেণী কক্ষের ফ্যান চালু থাকতে দেখা যায়। বিদ্যুতের অপচয়ের ব্যাপারে কখনোই স্কুলের শিক্ষকদের মাথা ব্যাথা নেই।
ভাদড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান ফ্যান চালু থাকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্কুল ছুটির সময় ফ্যান বন্ধের জন্য শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ভুলবশত ফ্যান চালু রেখে বের হয়েছে। এ ধরণের ভুল প্রায় হয় কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কখনো ১২ টি ফ্যান চালু রেখে যাওয়া হয়না। তবে কিছু কিছুদিন ১-২ টি ফ্যান ভুলবশত চালু থাকে।
বিদ্যলয়ের সভাপতি মামুন কবির পান্নু বলেন, ফ্যান চালু থাকার বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। রাতে এ ব্যাপারে আমাকে কেউ বলেনি। ভুলবশত ফ্যান চালু রেখে বিদ্যালয় ছুটির পরে যে যার মত বাসাতে চলে গেছে। এমনটি প্রথমবার হয়েছে। রাতে জানতে পারলে আমি অবশ্যই যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম। ভুলটি শিক্ষার্থীরা করেছে।
চৌগাছা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোঃ হাবিবুল্লাহ জনি জানান, ১ টি ফ্যান ২৪ ঘন্টা চালু থাকলে প্রায় ১.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। ধর্মীয়, শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিলের হিসাব মতে যার মূল্য প্রায় ১১ টাকা ১৬ পয়সা। তথ্য মতে ১২ টি ফ্যানে ২৪ ঘন্টায় বিদ্যুৎ ব্যয় হয় ২১.৬ ইউনিট। ধর্মীয়, শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিলের হিসাব মতে যার মূল্য ১৩৩ টাকা ৯২ পয়সা।
বিদ্যালয়ের ফ্যান চালু রাখার ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ