চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছার শহীদ মশিয়ুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেই বহিস্কৃত শিক্ষক শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ১৩ মার্চ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে স্কুলের সামনে সিংহঝুলি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের লিখিত ফেস্টুন ব্যবহার করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌর চন্দ্র দে বলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যভস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এবং তদন্ত প্রতিবেদন আসার পরেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে ঠিক কি কারনে তাকে বহিস্কার করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ওই মেয়ে ঘটিত ব্যাপার আর কি।
এদিকে একজন শিক্ষকের এই নৈতিক স্ফলন এবং বিদ্যালয় চলাকালিন এবং বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এই অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য দুই মাসের বহিস্কারে অনেক অভিভাবক অসন্তষ্ট প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এ ধরনের শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে একটি ফোনালাপের বহিস্কৃত শিক্ষক শরিফুল ইসালাম একজন ছাত্রকে চিন্তা করতে নিষেধ করছেন বলে শোনা যায়। অডিওতে তিনি বলছেন সব ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করার কিছু নেই। শুধু সময়ের ব্যাপার।
গত ১১ মার্চ স্কুলের সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম স্কুল চলাকালিন সময়ে স্কুলের বাথরুমে একজন ছাত্রীর সাথে প্রায় ১ঘন্টা অবস্থান করেছিলেন। সেসময় তারা অনৈতিক কর্মকান্ডও করেছেন বলে বিভিন্ন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বেশ কয়েকজন নিশ্চিত করেছিলেন। য়ে কারনে পরের দিন ১২ মার্চ স্কুলের সামনে স্কুলের বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের এই নৈতিক স্ফলনের বিচার দাবী করেন। তখন স্কুল ম্যানেজিং কমিটি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে এক জরুরি সভায় মিলিত হন।
পরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলি কদর মোহাম্মদ শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় ওই শিক্ষককে ২ মাসের জন্য বহিস্কার করা হয় এবং ঘটনা তদন্তে স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক মহাসিন আলীকে আহ্বায়ক এবং দুজন অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেন এবং রুবিনা খাতুনকে সদস্য করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

