কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:সাভার আশুলিয়া থানায় মামলার আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য দাফনের প্রায় ছয় মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনে আপত্তি দিয়েছে শহীদ পরিবার। কিন্তু মামলার বিষয় কিছু জানেনা পরিবার।
সোমবার (৩ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে কেশবপুর উপজেলা ১০নংসাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভালুকঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানায়, ৫ আগস্ট কেশবপুরে তৌহিদুর রহমান রানা ঢাকার আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। পরদিন গত ৬ আগস্ট ময়নাতদন্ত ছাড়াই তৌহিদুর
মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কেশবপুর উপজেলা ১০নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভালুকঘর এলাকায় নিয়ে দাফন করে তার পরিবার।
গত ( ৭ সেপ্টেম্বর ) নিহত তৌহিদুর রহমান রানা স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে ৫২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪ শত জনকে আসামি করে সাভার আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করে। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে আদালতে আবেদন জানায়। আবেদনের পরে আদালত অনুমতি দিলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহায়তায় সোমবার দুপুরে মরদেহ উত্তোলন করতে তৌহিদুর রহমানের গ্রামের বাড়িতে গেলে তার পিতা ও কেশবপুরের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি ও মামলার বাদী ও শহীদ তৌহিদুর পরিবারের লোকজন আপত্তি জানায়।
শহীদ তৌহিদুর রহমানের পিতা বলেন, যে মামলার জন্য আমার সন্তানের লাশ উত্তোলন করতে এসেছে এই মামলার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না,আমার বৌমা গোপনে এই মামলাটি করেছে আমাদের সাথে পরামর্শ ছাড়া। শহীদ তৌহিদুর রহমানের নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে যে অর্থ এসেছে কোন টাকা আমাদেরকে দেয় নাই বৌমা আত্মসাৎ করছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলন করতে প্রশাসন আসছিল। কিন্তু আমার সন্তানের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করতে দেব না। কারণ কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ইসলাম বিরোধী। তাছাড়া আমার সন্তান একজন শহীদ। কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করলে শহীদের অমর্যাদা হতে পারে।
শহীদ তৌহিদুর রহমানের স্ত্রী নাসরিন পারভিন মামলার বিষয় বলেন, মামলা করার আগে আমি আমার শ্বশুরকে কয়েকবার ফোন দিয়েছি কিন্তু তারা কোন গুরুত্বই দেয়নি তাই আমি নিজে ইচ্ছায় মামলাটি করেছি। এবং আমার স্বামীর নামে যে টাকা এসেছে কিছু টাকা আমি আমার শ্বশুরকে দিয়েছি, বাকি টাকা গুলো আমার সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকায় দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেশবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফ নেওয়াজ বলেন, ‘নিহতের পরিবার আপত্তি করায় লাশ উত্তোলন করা হয়নি। এখন বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।

