শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

জনবল সংকটে জর্জরিত সামেক হাসপাতাল ২২ লাধিক মানুষের জন্য চিকিৎসক ১১ জন

আরো খবর

 

ফারুক রহমান, সাতীরা:

৫০০ শয্যা বিশিষ্ট সাতীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেলার ২২ লাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আশা-ভরসার প্রাণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠান। করোনা প্রাদূর্ভাবে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় এই হাসপাতাল গৌরবান্বিত সাফল্য পেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারনে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রান কেন্দ্রটি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, হাসপাতালে উপ পরিচালকসহ সার্জারি, চু, এ্যানেসথেসিয়া, ইএনটি,চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজিসহ সিনিয়র কনসালটেন্ট’র মত গুরুত্বপূর্ণ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদের বিপরিতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। আটজন চিকিৎসক পদ শূন্য । শুধু তাই নয়, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, চু, এ্যানেসথেসিয়া, ইএনটি,চর্ম ও যৌন, রেডিওলজিসহ ১৮টি পদের বিপরিতে কর্মরত আছেন ৭জন।বাকি ১১টি পদ শূন্য অবস্থায় চলছে বছরের পর বছর। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

অন্যান্য যেসব শুন্যপদ, সিনিয়র কিনিক্যাল প্যাথলজি,এ্যানেসথেটিস্ট/ সহকারি সার্জন,প্যাথলজি/সহকারি সার্জন, রেডিওলজিস্ট/ রেডিওথেরাপিস্ট/ সহ: সার্জন, সহ: সার্জন/ সমমান, ইনডোর এমও/সহ: সার্জন, আউটডোর এমও/সহ: সার্জন,রেজিষ্টার/সহ: রেজিষ্টার,এমও (ব্লাড ব্যাংক)/ সহ: সার্জন,এম ও ফিজিওথেরাপি/সহ: সার্জন, ইমারর্জেন্সি এমও/সহ: সার্জন,পারফিউশনিষ্ট/সহ; সার্জন,ডেন্টাল সার্জন/সহ: ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসারসহ (আয়ুর্বেদিক/হোমিও) ৫৬টি পদের বিপরিতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন।

এেেত্রও ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য। জেলায় ২২ ল্যাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় সামেক হাসপাতালের জনবলের চিত্রে হতাশ হয়েছে সাতীরার সচেতন মহল।

সূত্রটি আরো জানায়, সামেক হাসপাতাল কোভিট ডেডিকেটেড পরবর্তী সময় থেকে আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী আসেন চিকিৎসা সেবা নিতে। এসময় চিকিৎসা সেবা তো দূরে থাক, চিকিৎসক সংকটে এতো রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপ।

সরজমিনে সামেক হাসপাতাল ৫শ শয্যা বিশিষ্ট হলেও বেড খালি নাথাকায় প্রায় দেড় থেকে দুইশ রোগীকে ফোরে বেড দিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। অত্যাধুনিক ভারী যন্ত্রাংশ থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে মারাত্মক হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। রোগীরা এক রোগের চিকিৎসা নিতে এসে অন্য রোগের চিকিৎসককে দেখাতে বাধ্য হচ্ছে। হাসাপাতালে জনবল সংকটের কারনে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বাস্থ্যসেবা। ইনডোরের ডাক্তারদের আউটডোর সামলাতে দেখা যায়। একেক জন চিকিৎসকের তিনটি চারটি করে দায়িত্ব পালন করতে হয়। হাসপাতালে সিনিয়র, জুনিয়র মিলে ১১জন কনসালটেন্টকে সামলাতে হয়,ভর্তি ও আউটডোরসহ প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগীকে।

এদিকে কর্মরত ১১ জন চিকিৎসক অকান্ত পরিশ্রম করে ইনডোর,আউটডোর,জরুরী বিভাগসহ ফোরে থাকা রোগীদের সেবা দিতে দেখা যায়। সিনিয়র কনসালটেন্ট না থাকায় ওটিতে এ্যানেসথেসিয়া দিচ্ছেন মেডিকেল অফিসার। সিনিয়র কনসালটেন্টদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় জুনিয়রদের। চোখের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট।

এছাড়া আরো দেখা যায় তৃতীয় শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মী ৭৮ জনের বিপরিতে আছে ২২ জন, আয়া ৫০ থেকে ৬০ জনের বিপরিতে ১০ জন কর্মরত থাকায় মারাত্নক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালের প্রতিটি স্থান অপরিছন্ন,নোংরা। ওয়ার্ড কেবিনের বাথরুমসহ ডাক্তারদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জায়গায়ও অপরিছন্ন ল্য করা যায়। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। যেটা রোগীদের জন্য মারাত্নক ঝুকির। স্বাস্থ্যসেবা নিতে আশা প্রতিটি রোগীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার অন্যতম কারন হতে পারে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ থেকে ৬০ জন সুইপারের বিপরিতে কর্মরত আছে মাত্র ১০/১৫জন। তাদের পে এত রোগীর সমাগম হাসপাতাল পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা খুবই দুঃসাধ্য। এখানেও জনবল সংকটের চিত্র।
চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।

আশাশুনিয়া উপজেলার বড়দল গ্রামের রবিউল আলম, ‘দীর্ঘদিন চোখের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন তিনি। এসেছিলাম চোখের ডাক্তার দেখাতে। জানতে পারলাম চোখের কোন সিঃ কনঃ নেই। কোন উপায় না পেয়ে যে ডাক্তার আছে তাকে দেখালাম। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শুন্য থাকায় জেলার প্রতিটি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে চরমভাবে বঞ্জিত হচ্ছে।

সদর উপজেলার কুকরালি গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছি চর্ম ও যৌন ডাক্তার দেখানোর জন্য। আসার পরে জানলাম হাসপাতালে কোন চর্ম ও যৌন ডাক্তার নেই। ফিরে যেতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ।এখন ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় যেতে হবে।কিভাবে খরচের টাকা যোগাড় করবো তাই ভাবছি। এভাবে তিগ্রস্থও হচ্ছে।

শিশু ওয়ার্ডে শিশু বিশেষজ্ঞের পদ দুটি শূন্য থাকায় মারাত্নক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিশু স্বাস্থ্য সেবায়। জোড়াতালি দিয়ে শিশু ওয়ার্ড চালাচ্ছেন একজন সিনিয়র কনঃ।
সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: কুদরত-ই-খুদা জনবল সংকটের কথা নিশ্চিত করে বলেন,হাসপাতালে মঞ্জুরিকৃত পদ সংখ্যা ৯৮টি।কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫টি।বাকি পদ শুন্য থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। দিন দিন হাসপাতালে রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে।আগে জরুরী বিভাগ আউটডোরে এত রোগী হতনা।এখন নিয়মিত শুধু আউটডোরে হাজার বারোশ রোগী আশে। তাদের ও ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চত করতে চিকিৎসক,স্বাস্থ্যকর্মী,আয়া ও সুইপারের সবগুলো শুন্য পদে জনবলের বিকল্প নেই। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপকে লিখিতভাবে অনেক অবহিত করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবেও ফোনে কথা বলেছি। বিষয়টি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে কোন ফল হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবার দূর্দশা থেকে মুক্তি চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপরে আশু হস্তপে কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাতীরাবাসী।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ