প্রতিনিধি : বিএনপির জনসমাবেশকে সফল করতে শীতের ভোরে মাঠ দখলে নেয় দলীয় নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকেই একে একে নেতাকর্মীরা শহরের টাউন হল ময়দানে আসতে শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ৭টারদিকে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে জেলার শীর্ষ নেতারা বড় মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে। এরপর থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, জনসমাবেশের জন্য আমরা পুলিশের কাছে অনুমোদন চেয়েছিলাম। এজন্য যশোর টাউন হল ময়দান, ঈদগাহ ও উপশহর মাঠকে চয়েস হিসেবে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে জনসমাবেশ করার অনুমোদন দেয়নি। পরে শীর্ষ নেতাদের পরামর্শে আমরা ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানেই জনসমাবেশের আয়োজন করি। সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু আরও জানান, ৫০ হাজার নেতাকর্মীকে জনসমাবেশস্থলে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো আমাদের। কিন্তু শহরের প্রবেশ পথগেুলোতে পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এসময় তারা আমাদের নেতাকর্মীদের জনসমাবেশস্থলে আসতে বাঁধা দেয়। তারপরও সমাবেশ শুরুর আগেই টাউন হল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
জনসমাবেশকে সফল করতে শীতের ভোরে মাঠ দখলে নেয় নেতাকর্মী

: অবশেষে ৭ বছর পর যশোরে প্রকাশ্য জনসমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। বুধবার শহরের টাউন হল ময়দানে পূর্বঘোষিত এ জনসমাবেশ করে তারা। এতে যশোরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষ অংশ নেয়। এদিনের জনসমাবেশকে সফল করতে সকাল থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে শহরের টাউন হল ময়দানে সর্বশেষ প্রকাশ্য ও বৃহৎ পরিসরে জনসমাবেশ করেছিলো জেলা বিএনপি। এরপর থেকে জেলার কোথাও আর জনসমাবেশের সুযোগ পায়নি দলটি। এমনকি সংসদ নির্বাচনের আগমুহুর্তেও সম্ভব হয়নি তা। এসময়ে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও তা ছিলো কেবলমাত্র দলীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক এবং অভ্যন্তরীণ। মাঝে মাঝে দু’একটি মিছিল বের হলেও, দু’তিন মিনিটের পায়ে হাঁটা পথেই তা শেষ হয়েছে। যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মামলা, হামলা দিয়ে রাজপথে দাঁড়াতে দেয়নি। পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে তারা আমাদের এক প্রকার জিম্মি করেছে রেখেছে। যেকারণে আমাদের পক্ষে প্রকাশ্য জনসমাবেশের মত কর্মসূচি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তাদের কারণে আমরা ইনডোর কর্মসূচিও সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারিনি। যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কারা মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজপথে নেমেছি।
